| বঙ্গাব্দ

গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যা: দম্পতিসহ চারজন গ্রেপ্তার

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 09-08-2025 ইং
  • 4407919 বার পঠিত
গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যা: দম্পতিসহ চারজন গ্রেপ্তার
ছবির ক্যাপশন: গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যা: দম্পতিসহ চারজন গ্রেপ্তার

গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যা: দম্পতিসহ চারজন গ্রেপ্তার

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: শনিবার, ৯ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী বর্ণনা

গাজীপুর মহানগরে প্রকাশ্যে সাংবাদিক মো. আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শুক্রবার (৮ আগস্ট) রাতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ও র‌্যাবের পৃথক অভিযানে এই গ্রেপ্তার হয়।

ঘটনাপ্রবাহ: ভিডিও করাই কাল হয়ে দাঁড়ায়

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৮ মিনিটে চান্দনা চৌরাস্তার শাপলা ম্যানশনের সামনে দিয়ে কালো বোরকা পরা এক তরুণী হাঁটছিলেন। হঠাৎ নীল শার্ট পরা বাদশা মিয়া নামের এক ব্যক্তি তাঁর গতি রোধ করেন ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। এরপর পাশ থেকে কয়েকজন সশস্ত্র যুবক চাপাতি, চায়নিজ কুড়াল ও রামদা নিয়ে বাদশাকে কোপাতে শুরু করে।
সাংবাদিক তুহিন ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করছিলেন। ঠিক এই কারণেই পরে মসজিদ মার্কেটের সামনে তাঁকে লক্ষ্যবস্তু বানায় দুর্বৃত্তরা। ভিডিওটি ডিলিট করার জন্য চাপ দিলে তুহিন রাজি না হওয়ায় শত শত মানুষের সামনে তাঁকে পৈশাচিকভাবে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়।

গ্রেপ্তারদের পরিচয়

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—

  • ফয়সাল ওরফে কেটু মিজান (স্বামী)

  • গোলাপী (স্ত্রী)

  • স্বাধীন

  • আল আমিন

ফয়সাল ও গোলাপীকে রাজধানীর উত্তরার তুরাগ এলাকা থেকে, স্বাধীনকে গাজীপুর সদর উপজেলার হোতাপাড়া থেকে এবং আল আমিনকে পৃথক অভিযানে ধরা হয়। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাঁদের শনাক্ত করা হয়। কেটু মিজান, শাহ জামাল, বুলেট ও সুজন—সবাই স্থানীয় ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা

সাংবাদিক মো. শামীম হোসেন বলেন, ‘ঘটনার সময় তুহিন ভাই ভিডিও করছিলেন। পরে দুর্বৃত্তরা তাঁকে ধরে ভিডিও মুছতে বলে। তিনি অস্বীকৃতি জানালে মসজিদ মার্কেটের সামনে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।’ চা দোকানি রুহুল আমিন জানান, তুহিন তাঁর দোকানে আশ্রয় নিয়েছিলেন, কিন্তু সন্ত্রাসীরা তাঁকে টেনে বের করে নিয়ে যায় এবং হত্যা করে।

মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়নি

তুহিনের মোবাইল ফোন এখনও উদ্ধার হয়নি। পুলিশ বলছে, ফোনটি পাওয়া গেলে ভিডিও ও হত্যাকারীদের সম্পৃক্ততা আরও স্পষ্ট হবে।

জানাজা ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

শুক্রবার জুমার নামাজের পর চান্দনা চৌরাস্তা ঈদগাহ মাঠে তুহিনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ অংশ নেন। নেতারা হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। পরে তাঁর মরদেহ নিজ গ্রাম ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার ভাটিপাড়ায় দাফন করা হয়।

পরিবারের শোকাবহ পরিস্থিতি

তুহিন পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন। বৃদ্ধ মা-বাবার সেবায় সবসময় মনোযোগী ছিলেন তিনি। দুই দিন আগেই বাড়িতে আসার পরিকল্পনা করেছিলেন মায়ের চোখের চিকিৎসার জন্য। লাশ বাড়িতে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

অন্য মামলা

এদিকে গাজীপুরে সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন সৌরভ হত্যাচেষ্টার মামলায় ফরিদ হোসেন নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে পা ও শরীর থেঁতলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।


সূত্র: গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী বর্ণনা

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency