প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রকাশ: ১ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), অর্থ মন্ত্রণালয়ের পত্র
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য নতুন ‘বিশেষ সুবিধা’ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে—জাতীয় বেতনস্কেলের গ্রেড অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের একটি নির্দিষ্ট অংশ বাড়তি সুবিধা হিসেবে পাবেন।
নির্দেশনায় বলা হয়:
গ্রেড-৯ ও তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার শিক্ষক-কর্মচারী
১ জুলাই ২০২৫ থেকে প্রতি বছর ১ জুলাই মূল বেতনের ১০% হারে বিশেষ সুবিধা পাবেন।
গ্রেড-১০ ও তদনিম্ন পদমর্যাদার শিক্ষক-কর্মচারী
প্রতি বছর ১ জুলাই মূল বেতনের ১৫%, তবে ন্যূনতম ১৫০০ টাকা হারে বিশেষ সুবিধা পাবেন।
এ সিদ্ধান্তটি কার্যকর হবে অর্থ বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক এবং এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সার্বিকভাবে তদারক করবে মাউশি।
বাংলাদেশে বেসরকারি শিক্ষক সমাজ দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য বেতন, সুযোগ-সুবিধা এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করে আসছে। বিশেষ করে—
| সাল | প্রেক্ষাপট | ঘটনা |
|---|---|---|
| ১৯৯৪ | সরকারি শিক্ষক ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকের মধ্যে বৈষম্য নিয়ে বড় আন্দোলন হয় | |
| ২০০৫ | ‘অবসর সুবিধা ও কল্যাণ তহবিল’ সংক্রান্ত সংস্কার দাবি করে গণস্বাক্ষর অভিযান | |
| ২০১৮ | এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জাতীয়করণ দাবিতে টানা ১১ দিন অবস্থান কর্মসূচি | |
| ২০২৩ | শিক্ষকদের দাবি অনুযায়ী ইনক্রিমেন্ট ও টাইমস্কেল অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ | |
| ২০২৫ | ‘বিশেষ সুবিধা’ ঘোষণায় নতুন যুগের সূচনা—সাধুবাদ জানিয়েছেন শিক্ষক সংগঠনগুলো |
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. হাফিজুল ইসলাম বলেন—
“বহুদিন পর শিক্ষকদের জন্য একটা ইতিবাচক বার্তা এসেছে। তবে এটি যেন শুধু কাগজে সীমাবদ্ধ না থাকে, দ্রুত বাস্তবায়ন চাই।”
কারিগরি শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন—
“কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষকরা বরাবরই অবহেলিত। এবার সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করায় ভালো লাগছে।”
এই বিশেষ সুবিধা মূলত নিম্ন ও মধ্যম আয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে সহায়ক হবে। ২০২৫ সাল থেকে জীবনধারনের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে। তাই এই সুবিধা—
শিক্ষক পেশার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সহায়ক
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থায়িত্ব ও কর্মচঞ্চলতা বজায় রাখতে সহায়ক
শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে
মাউশির সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৫ লাখের বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। এর মধ্যে:
মাধ্যমিক স্তরে: প্রায় ৩.২ লাখ
মাদরাসা ও কারিগরিতে: প্রায় ১.৮ লাখ
তাদের জন্য এই ‘বিশেষ সুবিধা’ প্রতিফলিত হবে জাতীয় বাজেট ও শিক্ষা উন্নয়ন পরিকল্পনার ওপর।
বিশেষ সুবিধা ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকার পরোক্ষভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে: শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ একটি মানবসম্পদ উন্নয়নের অন্যতম মৌলিক উপাদান।
বিশ্লেষকরা বলছেন—
এটি শিক্ষক পেশায় টিকে থাকার মানসিকতা জোগাবে
শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক অনিশ্চয়তা কমাবে
শিক্ষার মানোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে
তবে পাশাপাশি এটিও বলা হচ্ছে—বিশেষ সুবিধা শুধু বেতন বাড়ানো নয়, বরং নিয়োগ, পদোন্নতি, অবসরকালীন সুরক্ষা এবং প্রণোদনার সমন্বিত কাঠামো গড়ে তুললেই সত্যিকারের পরিবর্তন আসবে।
মাউশি নির্দেশনা পত্র (তারিখ: ৩১ জুলাই ২০২৫)
অর্থ মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পত্র
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ও ফোরামগুলোর প্রতিক্রিয়া
"বাংলাদেশ শিক্ষা আন্দোলনের ইতিহাস (১৯৭১–২০২১)" – প্রফেসর এনায়েত কবির
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |