প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
২৯ জুলাই ২০২৫ | বাংলাদেশ প্রতিদিন
সূত্র: যুগান্তর ও রাজনৈতিক ইতিহাস বিশ্লেষণ
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সম্প্রতি এক জনসভায় বলেন, “নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের সঙ্গে এক ভয়ানক প্রতারণা হয়েছে। ত্রিদলীয় জোটের রূপরেখা মানেনি কোনো দলই।” তিনি উল্লেখ করেন, এই ভাঙা প্রতিশ্রুতির ঐতিহাসিক দায় এখনও বাংলাদেশ বয়ে চলেছে। এবারও যেন সেই রাজনৈতিক প্রতারণার পুনরাবৃত্তি না হয়—এই আহ্বানই জানাচ্ছেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, ৫ আগস্টের মধ্যেই ‘জুলাই সনদ’ এবং ঘোষণাপত্র জারি না হলে, এনসিপি তাদের কর্মসূচিকে আরও তীব্র করবে। তিনি বলেন, “এই সনদের আইনি ভিত্তি থাকতে হবে এবং যেই সরকারই গঠিত হোক, তাকে এই সংস্কার বাস্তবায়নে বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে হবে।”
প্রসঙ্গত, জুলাই সনদ মূলত একটি সংস্কারভিত্তিক রূপরেখা, যার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে স্বচ্ছতা, জনগণের অংশগ্রহণ এবং গণপরিষদ নির্বাচনের মতো মৌলিক বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ইতিহাস নতুন কিছু নয়। চলুন একবার সংক্ষেপে দেখে নেওয়া যাক—
| সাল | ঘটনা | রাজনৈতিক প্রতারণা / অমিল |
|---|---|---|
| ১৯৫২ | ভাষা আন্দোলন | পূর্ব বাংলার জনগণের দাবি উপেক্ষিত ছিল বহু বছর |
| ১৯৭১ | মুক্তিযুদ্ধ | স্বাধীনতার চেতনা লঙ্ঘন হয় পরবর্তীতে সংবিধান সংশোধন ও দলীয় দখলে |
| ১৯৭৫ | বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড | জাতীয় ঐক্য ভেঙে সামরিক শাসন কায়েম হয় |
| ১৯৯০ | গণঅভ্যুত্থান | এরশাদ পতনের পর ত্রিদলীয় চুক্তির অনেক অংশই বাস্তবায়িত হয়নি |
| ২০০৬-২০০৮ | সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার | সংস্কার ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবতা ছিল ভিন্ন |
| ২০১৪, ২০১৮ | একতরফা নির্বাচন | সকল দলের অংশগ্রহণ ছাড়াই নির্বাচনের অভিযোগ |
| ২০২৪ | জুলাই অভ্যুত্থান | রাজনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা হলেও বেশিরভাগ পক্ষ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ব্যর্থ |
জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন:
হাসনাত আব্দুল্লাহ (মুখ্য সংগঠক, দক্ষিণাঞ্চল): “দলীয় দ্বন্দ্ব নয়, জাতিগত ঐক্য জরুরি।”
ডা. তাসনিম জারা (সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব): “জুলাই সনদ শুধুই কাগজ নয়—এটা জনগণের নতুন চুক্তি।”
নাসীরুদ্দীন পাটোওয়ারী (মুখ্য সমন্বয়ক): “বিচার সংস্কার ছাড়া গণপরিষদ অবান্তর।”
আব্দুল হান্নান মাসুদ (সিনিয়র মুখ্য সমন্বয়ক): “৫ আগস্টের সময়সীমা শেষ হলে জাতীয় প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জুলাই সনদ যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে এটা হতে পারে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কারের এক নতুন দিগন্ত। তবে প্রশ্ন উঠেছে, সরকার কি আদৌ এই সংস্কার বাস্তবায়নে আগ্রহী? এবং বাকি দলগুলো কি নিজেদের অস্তিত্বের বাইরে গিয়ে জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারবে?
সাম্প্রতিক এক সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান বলেন,
“জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে এক ধরনের আইনি কাঠামোর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সরকারগুলোকে জনগণের জবাবদিহিতার আওতায় আনা যাবে।”
১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর বারবার সংলাপ, সমঝোতা ও সংস্কারের কথা উঠেছে। ২০০৭ সালে সিএলআরজি (সিভিল ল ফোরাম ফর রুল গভার্নেন্স) একটি রাজনৈতিক সংস্কার রূপরেখা প্রস্তাব করে। কিন্তু সেগুলোর প্রায় কোনো কিছুই বাস্তবায়ন হয়নি।
নাহিদ ইসলামের বক্তব্য সেই দীর্ঘ প্রতারিত রাজনৈতিক ইতিহাসেরই প্রতিধ্বনি। তিনি এবার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন,
“এইবার কেউ পার পাবে না। প্রতারণা ঠেকাতেই এনসিপি মাঠে।”
৫ আগস্টের আগে সরকার ও বিরোধী পক্ষ যদি সত্যিকারের আলোচনা ও ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারে, তাহলে দেশে এক নতুন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হতে পারে। আবারও জনগণের আস্থার সংকট এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রশ্নবিদ্ধতা সামনে চলে আসতে পারে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
দৈনিক যুগান্তর, ২৯ জুলাই ২০২৫
বাংলাদেশ রাজনৈতিক ইতিহাস ১৯৫২–২০২৪, ড. কামরুল হাসান
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |