| বঙ্গাব্দ

পরিবহন ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি, ১১ আগস্টের মধ্যে ৮ দফা দাবি না মানলে ৭২ ঘণ্টার কর্মবিরতি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 27-07-2025 ইং
  • 4463753 বার পঠিত
পরিবহন ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি, ১১ আগস্টের মধ্যে ৮ দফা দাবি না মানলে ৭২ ঘণ্টার কর্মবিরতি
ছবির ক্যাপশন: পরিবহন ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি

৮ দফা দাবিতে পরিবহন ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি: ১১ আগস্টের আল্টিমেটাম
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ২৮ জুলাই ২০২৫ | সূত্র: জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন

আগামী ১২ আগস্ট থেকে দেশব্যাপী ৭২ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট

সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনসহ ৮ দফা দাবিতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা ৭২ ঘণ্টার ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। দাবিগুলো বাস্তবায়নে সরকারকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন তারা। দাবি না মানলে ১২ আগস্ট সকাল ৬টা থেকে ১৫ আগস্ট সকাল ৬টা পর্যন্ত সারা দেশে বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, প্রাইম মুভারসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক যানবাহন বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

কারা এই ধর্মঘট ডাকলো?

এ হুঁশিয়ারি দেন:

  • বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি

  • বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন

  • বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন

মূল বক্তব্য

সংবাদ সম্মেলনে মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেন,

“পরিবহন খাত দেশের অর্থনীতি ও যাতায়াত ব্যবস্থার মেরুদণ্ড। কিন্তু নানা অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের কারণে মালিক-শ্রমিক উভয়েই চরম ক্ষতির মুখে পড়ছে।”

তিনি জানান, ২০-২৫ বছর মেয়াদি পুরাতন যানবাহন সরানোর নির্দেশনা, অতিরিক্ত আয়কর, এবং বিআরটিএ’র অভিযানের বিরুদ্ধে মালিক-শ্রমিকদের অসন্তোষ দীর্ঘদিনের। এসব বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের দাবি জানানো হয়েছে।

দাবিগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ (৮ দফা)

  1. সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ৯৮ ও ১০৫ ধারা সংশোধন

  2. পুরাতন বাস/ট্রাকের ইকোনমিক লাইফ ৩০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো

  3. ফিটনেসবিহীন যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন

  4. লোকাল জেলায় পুরাতন গাড়ি চলাচলের অনুমতি বহাল রাখা

  5. ২০–২৫ বছর মেয়াদি গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান স্থগিত রাখা

  6. প্রিজাম্পটিভ ইনকাম ট্যাক্স কমিয়ে আগের মতো রাখা

  7. রিকন্ডিশন্ড যানবাহন আমদানির মেয়াদ ১২ বছর পর্যন্ত বাড়ানো

  8. ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন ও স্ক্র্যাপ নীতিমালা প্রণয়ন

অতীত থেকে শিক্ষা: ১৯৭২–২০২৫ এর প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে শ্রমিক-মালিকের যৌথ ধর্মঘট ১৯৭২ সালে ঢাকার রিকশা মালিক ও চালকদের আন্দোলন থেকেই শুরু হয়। এরপর থেকে প্রায় প্রতি দশকে এ ধরনের ধর্মঘট দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে বড় প্রভাব ফেলেছে।
বিশেষত ২০০৫, ২০১৮ এবং ২০২২ সালে সড়ক পরিবহন আইন ও নিরাপত্তা ইস্যুতে আন্দোলন দেশজুড়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি করেছিল। এবারের ধর্মঘট হুঁশিয়ারি একই ধাঁচে একটি বড় সংকেত হতে পারে।

বিশ্লেষণ: রাজনৈতিক শূন্যতায় মালিক-শ্রমিক একত্র?

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে এ ধরনের সংগঠিত ধর্মঘট হুঁশিয়ারি রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। যেখানে আইন সংশোধনের দাবির আড়ালে প্রশাসনিক অকার্যকারিতারও দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়।
বিআরটিএ'র অকার্যকর প্রয়োগ, অস্বচ্ছ লাইসেন্স পদ্ধতি এবং দুর্নীতিবাজ চক্রের সক্রিয়তা বারবার সড়ক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।

প্রতিবেদকBDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency