| বঙ্গাব্দ

জুলাই যোদ্ধাদের জন্য চাকরির কোটা নয়, পুনর্বাসন কার্যক্রমে জোর: ফারুক ই আজম

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 21-07-2025 ইং
  • 4516488 বার পঠিত
জুলাই যোদ্ধাদের জন্য চাকরির কোটা নয়, পুনর্বাসন কার্যক্রমে জোর: ফারুক ই আজম
ছবির ক্যাপশন: পুনর্বাসন কার্যক্রমে জোর: ফারুক ই আজম

জুলাই যোদ্ধাদের” জন্য কোটা নয়, পুনর্বাসন – জানালেন উপদেষ্টা ফারুক ই আজম

প্রতিবেদক: বাংলাদেশ প্রতিদিন ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৫ | ঢাকা, সচিবালয়

২০২৪ সালের আলোচিত “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে” যারা শহীদ হয়েছেন ও আহত হয়েছেন, তাদের জন্য সরকারি চাকরিতে কোনো কোটা থাকবে না বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম

সোমবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে “জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গৃহীত কার্যক্রম” নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,

“না, না — কোনো কোটা থাকবে না।”

তিনি আরও জানান, “মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জুলাই গণ-আন্দোলনে হতাহতদের জন্য পুনর্বাসন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। তবে সে পুনর্বাসনে চাকরির কোটা বা সরকারি ফ্ল্যাটের ব্যবস্থা নেই।”

কী থাকবে পুনর্বাসনে?

উপদেষ্টার ভাষ্য অনুযায়ী, এই কার্যক্রমের আওতায় থাকবে—

  • আত্মকর্মসংস্থানমুখী প্রশিক্ষণ

  • হাঁস-মুরগি বা পশু পালন সংক্রান্ত সহায়তা

  • ব্যক্তিগত উদ্যোগে জীবিকা গড়ার উপযোগী ক্ষুদ্র সহায়তা

  • যোগ্যতা অনুসারে পুনর্বাসনের ভিন্ন পরিকল্পনা

তিনি বলেন, “যারা হাঁস-মুরগি পালন করতে চান, বা ছোট পরিসরে কোনো কাজ শুরু করতে চান, তাদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা থাকবে।”

মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা মিলবে?

এই প্রশ্নে ফারুক ই আজম বলেন, “মুক্তিযোদ্ধারা মহান। তাদের প্রসঙ্গ এখানে আনা উচিত নয়। তাদের অবদান অনস্বীকার্য। জুলাই যোদ্ধাদের স্বীকৃতি থাকলেও সেটা মুক্তিযোদ্ধাদের সমতুল্য হবে না।”

এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। অনেকে বলছেন, ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই—তাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও স্থায়ী স্বীকৃতি পাওয়া উচিত।

পটভূমি

২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র ও নাগরিক সমাজের যৌথ আন্দোলনে দেশের বড় একটি অংশ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। সরকারি চাকরির কোটা সংস্কার ইস্যু থেকে আন্দোলনের সূত্রপাত হলেও, তা পরিণত হয় সার্বিক স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে।

বিভিন্ন সূত্র মতে, ৮০০ থেকে ১২০০ জন পর্যন্ত বিক্ষোভকারীর প্রাণহানি ঘটে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং ভারতে চলে যান। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।

সরকার কী বার্তা দিতে চাইছে?

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকার একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিচ্ছে—একদিকে আন্দোলনকারীদের প্রতি সহানুভূতি দেখানো, অন্যদিকে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিদ্রোহ বা দাবিকে উৎসাহিত না করা।

রাজনৈতিক গবেষক ড. আবু রায়হান বলেন, “সরকার আসলে একটি নীরব সমঝোতা করছে। পুনর্বাসন দিয়ে দায়িত্ব শেষ করতে চায়, কিন্তু রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দায় এড়িয়ে যাচ্ছে।”

শহীদ পরিবারের মত

ঢাকা মেডিকেলের এক আহত শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা তো দেশের জন্য লড়েছি। এখন রাষ্ট্র আমাদের স্বীকৃতি না দিয়ে বলছে, হাঁস-মুরগি পালন করো। এটা অসম্মানজনক।”

এক শহীদের ভাই বললেন, “আমরা কোনো ভাতা চাই না, আমরা চাই ইতিহাসে একটা জায়গা।”

সারাংশ

২০২৫ সালে দাঁড়িয়ে “জুলাই যোদ্ধারা” রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না পেলেও, তাদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনস্বীকার্য অধ্যায় হয়ে থাকবেই। পুনর্বাসনের ঘেরাটোপে আটকে রেখে এই অধ্যায়কে ধুয়ে-মুছে দেওয়া সম্ভব হবে না।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency