পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজায় ৪০ মিনিট অচলাবস্থা: চাঁদাবাজি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে শরীয়তপুরবাসীর প্রতিবাদ
ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে বাসচালকদের ওপর হামলা, চাঁদা দাবি এবং বাস চলাচলে বাধার প্রতিবাদে শনিবার (১২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে শরীয়তপুরবাসী পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে টোলপ্লাজায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন। কর্মসূচিতে অংশ নেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জাতীয় যুব শক্তি ও শরীয়তপুরের সর্বস্তরের জনগণ।
এই প্রতিবাদে প্রায় ৪০ মিনিট টোল প্লাজায় যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে এক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের রাজনীতির ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজি, হামলা, খুন এবং দখলদারি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। মিটফোর্ডে সোহাগ হত্যাকাণ্ড, গোসাইরহাটে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, যাত্রাবাড়ীতে বাস ভাঙচুর—এসব ঘটনা কেবল বিচ্ছিন্ন নয়, বরং বৃহত্তর নৈরাজ্যের অংশ।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শরীয়তপুর জেলা আহ্বায়ক ইমরান নাজির বলেন, “চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দেশের রাজনীতিকে কলঙ্কিত করছে। যাত্রাবাড়ীতে পরিবহনকে জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা দাবি করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদে শরীয়তপুরবাসী রাস্তায় নেমেছে।”
তিনি আরও বলেন, “পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে মাঝির ঘাট এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের ওপর যেভাবে দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
শরীয়তপুর জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের অভিযোগ, ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মাসিক চাঁদা আদায় করে আসছেন। সম্প্রতি তিনি এককালীন ৫০ লাখ টাকা এবং ১০টি বাস কাউন্টার দাবি করলে মালিকপক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৯ জুলাই থেকে যাত্রাবাড়ীতে শরীয়তপুরের বাস চলাচলে বাধা দেওয়া হয়। ওই দিন ধোলাইপাড় এলাকায় একটি বাস ভাঙচুর হয়, ১০ জুলাই ফিলিং স্টেশনের সামনে আরও দুইটি বাসে হামলা চালানো হয় এবং ১১ জুলাই এক শ্রমিককে মারধর করা হয়।
এ পর্যন্ত ১০টি বাস ভাঙচুর এবং ১২ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে মালিক ও শ্রমিক নেতাদের দাবি।
শরীয়তপুর সুপার সার্ভিসের চালক নয়ন বেপারী বলেন, “আজ সকালেও কয়েকজন এসে আমাকে মারধর করে হুমকি দেয় যে চাঁদা না দিলে এই রুটে বাস চালাতে পারব না। আমি এর সঠিক বিচার চাই।”
জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক চৌকিদার বলেন, “গত বছরের ৫ আগস্টের পর ফাহিম নামের এক ব্যক্তি যাত্রাবাড়ী কাউন্টার দখল করে নিয়েছেন। তখন থেকেই শুরু হয় চাঁদাবাজি। এখন তিনি পাঁচ কোটি টাকা দাবি করছেন। শ্রমিকদের মারধর করছেন। প্রায় ২০ লাখ মানুষ এর ফলে দুর্ভোগে পড়েছে।”
শরীয়তপুর পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি ফারুক আহমেদ তালুকদার বলেন, “পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে আমরা আন্তঃজেলা যাত্রীসেবা দিয়ে আসছি। কিন্তু এখন বাধা সৃষ্টি করে আমাদের গাড়ি চালানো বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। আমরা আইনি সহায়তা চাই।”
অভিযোগ সম্পর্কে অভিযুক্ত ব্যক্তি মুশফিকুর রহমান ফাহিম বলেন, “আমাদের দুটি পরিবহন রয়েছে। শরীয়তপুরের বাসগুলো আমাদের পরিবহনকে বাধা দিচ্ছে। আমি কারও কাছ থেকে চাঁদা চাইনি। কেউ প্রমাণ দিতে পারলে আমি নিজেই শাস্তি দাবি করব।”
শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ডিএমপির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। যাত্রাবাড়ী ঢাকার আওতাভুক্ত হওয়ায় আমরা সমন্বয় করে পদক্ষেপ নিচ্ছি। যাত্রীদের যেন কোনো হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”
এই ঘটনাটি শুধু একটি ট্রাফিক সমস্যার বহিঃপ্রকাশ নয়। এটি প্রমাণ করে দেশের সড়কপথ এখন চাঁদাবাজি ও দখলদার গোষ্ঠীর কাছে কতটা অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। আন্দোলনকারীরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং স্বাভাবিক পরিবহন চলাচলের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। অন্যথায় তারা আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিতে পারেন।
বাংলাদেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ধরনের স্থানীয় আন্দোলনগুলো এখন জাতীয় স্তরে প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে পদ্মা সেতুর মতো প্রতীকি স্থানে বিক্ষোভ নতুন বাস্তবতা সামনে নিয়ে আসছে—জনগণ আর শুধু অপেক্ষা করে না, রাস্তায় নেমে আসে।
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |