গতকাল রাজধানীর দক্ষিণ কাফরুলে এক পথসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, "জামায়াত রাষ্ট্র ক্ষমতায় এলে কোনো দুর্নীতি হবে না। আমরা শাসক হব না, হব জনগণের সেবক।" এই বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন দলটি দীর্ঘ সময় নিষিদ্ধ ও নিবন্ধনবিহীন অবস্থায় দেশের রাজনীতিতে টিকে থাকার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “সাড়ে ১৫ বছর ধরে আমাদের ওপর দমন-পীড়ন চলছে। কিন্তু তবুও আমরা মানুষের পাশে থেকেছি।”
এই বক্তব্য শুধুই একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়—বরং এর পেছনে রয়েছে দেশের একটি বড় রাজনৈতিক ধারার উত্তাল ইতিহাস, বিতর্ক এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সম্ভাবনার ইঙ্গিত।
স্থান: দক্ষিণ কাফরুল, ঢাকা
সময়: ২৫ জুন ২০২৫, বিকেল
ঘোষণা:
রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গঠন করা হবে
ইসলামী আইনের প্রতিষ্ঠা
অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠন
সমাজসেবায় বেশি গুরুত্ব
চাঁদাবাজি বন্ধের অঙ্গীকার
দল নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও জনসাধারণের পাশে থাকার দাবি
এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, বহু জামায়াত নেতা-কর্মী এখনও জেলে, দলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, তবুও তাঁরা দুর্যোগে পাশে ছিলেন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামী এক সময় ছিল অন্যতম বড় ইসলামী রাজনৈতিক দল।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে দলের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, যা দলটির ভাবমূর্তি দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
২০১০ সালের পর দলটির শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বিচার হয় ও শাস্তি হয়।
২০১৩ সালে হাইকোর্ট দলটির নিবন্ধন বাতিল করে।
এরপর থেকে দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না।
তবুও তারা বিভিন্ন সময় পথে-ঘাটে, সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে সক্রিয় রয়েছে।
দলের তরুণ নেতৃত্ব, নতুন মুখ এবং পুনঃব্র্যান্ডিংয়ের চেষ্টা দেখা যাচ্ছে গত কয়েক বছরে।
সামাজিক সংগঠনের ছায়ায় সাংগঠনিক কাঠামো ধরে রাখার কৌশল অবলম্বন করেছে।
এ ধরনের বক্তব্য মূলত দলীয় পুনরুজ্জীবনের অংশ। নিষিদ্ধ দল হিসেবে জামায়াত এখন জনগণের মাঝে ধর্মীয় ও নৈতিকতা-ভিত্তিক রাজনীতির বার্তা ছড়িয়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে চাইছে।
দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকার, সমাজসেবা ও চাঁদাবাজি বন্ধের ঘোষণা মূলত তরুণ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে আকৃষ্ট করার একটি কৌশল।
জামায়াতের ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠার আহ্বান বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের আলোকে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি ও ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠার ডাক—দুইয়ের মধ্যে সাংঘর্ষিক বার্তা রয়েছে।
দলীয় নিবন্ধন পুনরুদ্ধার
যুদ্ধাপরাধের ছায়া থেকে মুক্তি
তরুণ প্রজন্মের আস্থা অর্জন
রাজনীতির মূলধারায় ফিরে আসার কৌশল
রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন ধর্মভিত্তিক মডারেট প্ল্যাটফর্ম তৈরি
ইসলামী মূল্যবোধে আগ্রহী জনশ্রেণিকে একত্রিত করা
সমাজসেবামূলক কাজে সক্রিয় থাকলে মাঠ পর্যায়ে প্রভাব বাড়াতে পারে
ডা. শফিকুর রহমানের এ বক্তব্য রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে একটি কৌশলী বার্তা। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে যে নৈতিক ও সেবামূলক রাষ্ট্র গড়বে—এমন বার্তার পেছনে রয়েছে দলীয় পুনর্বাসনের কৌশল ও হারানো জনপ্রিয়তা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ইতিহাসের ভারে ভবিষ্যৎ পথ খুব সহজ হবে না—বিশেষ করে দলীয় নিবন্ধন ছাড়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন বড় চ্যালেঞ্জ।
১. জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন কি এখনো বাতিল?
→ হ্যাঁ, হাইকোর্টের রায়ে ২০১৩ সালে দলটির নিবন্ধন বাতিল হয়।
২. তারা কেন নিষিদ্ধ হয়েছিল?
→ যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ, সংবিধান বিরোধী আদর্শ এবং সহিংস রাজনৈতিক কার্যক্রমের কারণে।
৩. জামায়াত কি এখনো সক্রিয়?
→ সরাসরি রাজনৈতিকভাবে নয়, তবে সামাজিক ও দাওয়াতী কাজের মাধ্যমে সক্রিয় থাকার চেষ্টা চালাচ্ছে।
৪. তারা নির্বাচন করতে পারবে কি?
→ নিবন্ধন না থাকায় বর্তমান নিয়মে পারবে না। দলীয় নিবন্ধন পুনরুদ্ধার না হলে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত।
৫. জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কী পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে?
→ দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, চাঁদাবাজি বন্ধ, ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠা, এবং সমাজসেবার ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠন।
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |