প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রকাশকাল: ৬ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বাংলাদেশ প্রতিদিন
রুশ ট্যাবলয়েড মস্কোভস্কি কমসোমোলেতস সম্প্রতি এক রেলগাড়ির উপমায় লিখেছে—“ট্রাম্প লোকোমোটিভ ও পুতিন লোকোমোটিভ মুখোমুখি আসছে, কেউ থামছে না, পেছাচ্ছেও না।”
এই এক বাক্যেই যেন ফুটে উঠেছে ২০২৫ সালে দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার জটিল রাজনৈতিক সম্পর্ক। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে দুই পরাশক্তির মধ্যে যে গোপন সংঘর্ষ চলছে, সেটিই এখন দিনদিন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রথমদিকের কয়েক সপ্তাহে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘে ইউক্রেন-নিন্দা প্রস্তাবেও অংশ নেয়নি ওয়াশিংটন।
টেলিফোনে রাষ্ট্রীয় সফরের আলোচনা, কিয়েভকে চাপ দিয়ে মস্কোকে সুযোগ দেওয়া, এমনকি ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে ক্রেমলিনে আশার আলো জাগান—এসব মিলেই মনে হচ্ছিল, ট্রাম্প-পুতিন একই রেলগাড়িতে আছেন।
কিন্তু অল্প কয়েক মাসেই সম্পর্ক বদলে যায়।
রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ চলতেই থাকায় এবং পুতিনের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির কোনো সদিচ্ছা না থাকায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্রুতই বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
তিনি পুতিনকে প্রথমে ৫০ দিন, পরে ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেন যুদ্ধ থামাতে। নিষেধাজ্ঞা, বাড়তি শুল্ক, এবং পারমাণবিক সাবমেরিন পাঠানো—সবকিছু মিলিয়ে বাড়ে উত্তেজনা।
ট্রাম্প বলেন, “রাশিয়ার আক্রমণ ঘৃণ্য, লজ্জাজনক। ইউক্রেন সম্পর্কে পুতিন যা বলছেন, তা বাজে ও বিভ্রান্তিকর।”
দাবি যতই থাকুক, হোয়াইট হাউস এখনো চুক্তির সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছে না। ট্রাম্প নিজেকে “মাস্টার ডিলমেকার” হিসেবে পরিচয় দেন এবং ইউক্রেন সংকটে তা বাস্তবায়নের জন্যই স্টিভ উইটকফকে বিশেষ দূত হিসেবে পাঠিয়েছেন।
উল্লেখযোগ্য যে, গত কয়েক মাসে তিনি কমপক্ষে চারবার রাশিয়া সফর করেছেন। পুতিনের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বৈঠক করেছেন এবং একবার একটি ট্রাম্পের প্রতিকৃতি উপহার পেয়েছেন, যা ট্রাম্পকে ‘মুগ্ধ’ করেছে বলে জানায় হোয়াইট হাউস।
পুতিনের দিক থেকে যুদ্ধ থামানোর স্পষ্ট সংকেত নেই। বরং তিনি ইউক্রেনের নিরপেক্ষতা, সেনাবাহিনীর আকার ও ভূখণ্ড নিয়ে কঠোর অবস্থানেই অনড়।
বিশ্লেষক নিনা ক্রুশ্চেভা বলেন:
“পুতিন মনে করেন তিনি জারদের উত্তরসূরি। তিনি চাইছেন পশ্চিমাদের বোঝাতে—রাশিয়াকে হেয় করা যাবে না।”
রাশিয়া এখনো বিশ্বাস করে, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘বিচ্ছিন্নতা’ ইউরোপকে দুর্বল করছে—এমন মত প্রকাশ করেছে রুশ মিডিয়া ইজভেস্তিয়া।
দুই দেশের সম্পর্ক যখন রেলগাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ থেকে পারমাণবিক সাবমেরিন পাঠানো পর্যন্ত পৌঁছেছে, তখন এটিকে কেবল কূটনৈতিক উত্তেজনা বললে কম বলা হয়।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইভান লোশকারেভ বলেন:
“স্টিভ উইটকফ এবার এমন একটি সহযোগিতা প্রস্তাব নিয়ে আসতে পারেন, যেটি যুদ্ধবিরতির পরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য।”
আজকের বাস্তবতায়, পুতিন চান সম্মানজনক বিজয় আর ট্রাম্প চান অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও চুক্তি। দুই লক্ষ্যের ফারাক যতদিন থাকবে, ততদিন ‘সংঘর্ষ অনিবার্য’ থিওরি চালু থাকবে।
তবে চূড়ান্ত মুহূর্তে এসে দুই পরাশক্তির একে অপরকে এড়িয়ে যেতে না পারা—তা একদিকে উদ্বেগের, অন্যদিকে একটি সম্ভাব্য চুক্তির আলোও জাগিয়ে রাখে।
মস্কোভস্কি কমসোমোলেতস (রাশিয়া), আগস্ট ২০২৫
ইজভেস্তিয়া, রুশ সংবাদপত্র
নিউ ইয়র্ক টাইমস আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ, জুলাই ২০২৫
হোয়াইট হাউস ব্রিফিং – ইউক্রেন যুদ্ধ নীতি
The New School, নিউ ইয়র্ক – প্রফেসর নিনা ক্রুশ্চেভার সাক্ষাৎকার
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |