আদালত প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট
ঢাকা, ৮ এপ্রিল ২০২৬: জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে নিরুদ্দেশ থাকা সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে অবশেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানি শেষে আদালত তাঁর রিমান্ড ও জামিন—উভয় আবেদনই নামঞ্জুর করেন। শুনানি শেষে আদালত থেকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় ধস্তাধস্তি ও উত্তেজনার মধ্যে সিঁড়িতে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হন সাবেক এই স্পিকার।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী শিরীন শারমিনকে ‘ফ্যাসিস্টের সহযোগী’ ও ‘বিনা ভোটের এমপি’ হিসেবে অভিহিত করে দুই দিনের রিমান্ড দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্ট সরকারকে টিকিয়ে রাখতে আন্দোলনে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন এই আসামি।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, এজাহারে কেবল ৩ নম্বর আসামি হিসেবে তাঁর নাম থাকা ছাড়া সুনির্দিষ্ট কোনো অপরাধের বর্ণনা নেই। তারা তাঁর জামিন প্রার্থনা করলেও আদালত তা নাকচ করে দেন।
আদালতের আদেশ আসার পরপরই নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা আদালত প্রাঙ্গণে স্লোগান শুরু করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের সঙ্গে তাদের ব্যাপক ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পুলিশি বেষ্টনী ভেদ করে আইনজীবীদের এই বিশৃঙ্খলা আদালত পাড়ায় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
সবচেয়ে নাটকীয় ঘটনা ঘটে যখন শিরীন শারমিনকে এজলাস থেকে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ভিড়ের চাপে নিচতলার সিঁড়িতে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। তবে পাশে থাকা নারী পুলিশ সদস্যরা দ্রুত তাকে টেনে তোলেন। যদিও দায়িত্বরত উপপরিদর্শক মো. মোরশেদ আলম দাবি করেছেন, "উনি পড়েননি, কেবল শেষ সিঁড়িতে এসে পা একটু বেঁকে গিয়েছিল।"
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই আজিমপুর সরকারি কলোনিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে মো. আশরাফুল (ফাহিম) স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারান। এই ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের বিরুদ্ধে করা মামলায় শিরীন শারমিনকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়। গত রাতে ধানমন্ডির একটি গোপন আস্তানা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।
বিডিএস অ্যানালাইসিস: ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে শিরীন শারমিন চৌধুরীর গ্রেফতার ও কারাগারে যাওয়া বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য এক বিশাল প্রতীকী ঘটনা। টানা তিন মেয়াদের স্পিকার, যিনি সংসদীয় গণতন্ত্রের অভিভাবক ছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ‘গুলি চালানোর নির্দেশ’ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ এবং আদালতের এই কঠোর অবস্থান প্রমাণ করে যে—আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। ‘এক পা এক পা’ করে রাষ্ট্র সংস্কারের পথে এটি একটি মাইলফলক বিচারিক পদক্ষেপ।
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিস্তারিত তথ্য |
| আদেশের ধরণ | রিমান্ড ও জামিন নামঞ্জুর; সরাসরি জেলহাজত। |
| শুনানির সময়কাল | ২০ মিনিট। |
| রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান যুক্তি | ফ্যাসিস্টের সহযোগী ও আন্দোলনে গুলিবর্ষণের ইন্ধনদাতা। |
| আসামিপক্ষের প্রধান যুক্তি | এজাহারে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের অনুপস্থিতি। |
| অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা | সিঁড়িতে ভারসাম্য হারানো ও আইনজীবীদের ধাক্কাধাক্কি। |
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |