অন্তর্বর্তী সরকার ও বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে সাইবার আক্রমণে সক্রিয় সিআরআই: সূত্র
বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: অন্তর্বর্তী সরকার, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির বিরুদ্ধে একের পর এক সাইবার আক্রমণের পেছনে কাজ করছে আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন (সিআরআই)। এ আক্রমণ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না শীর্ষ রাজনীতিবিদ, উপদেষ্টা ও সামরিক-বেসামরিক আমলাসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থনের সমর্থকরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভিডিও ক্লিপ, বেনামি ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে সিআরআই এক ধরনের সাইবার যুদ্ধ চালাচ্ছে। তাদের মূল লক্ষ্য তিনটি—
অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করা
জাতীয় নির্বাচন ভন্ডুল করা
বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও জুলাই অভ্যুত্থানের শক্তিগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা
এর মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় ফেরানোই প্রধান উদ্দেশ্য বলে সূত্র জানিয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের এক বছর পর ২০১০ সালে সিআরআই কার্যক্রম শুরু করে। ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িকে এ প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক ঠিকানা দেখানো হলেও কার্যত নানা জায়গা থেকে গোপনে কাজ চালাত তারা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেলে সিআরআই কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়ে। তবে তিন মাস আগে আবারও প্রতিষ্ঠানটি সক্রিয় হয়েছে, তবে এবার ভারতের দিল্লিকে কার্যক্রমের মূল কেন্দ্র বানানো হয়েছে।
দীর্ঘদিন সিআরআই’র দায়িত্বে ছিলেন শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ায় তার পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব পালন কঠিন হয়ে পড়ে। শেখ হাসিনার নির্দেশে এখন প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বে রয়েছেন তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।
নয়াদিল্লির লুটিয়েন্স বাংলো জোনে একটি ভবন থেকে তিনি কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এখান থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শতাধিক আইডি ও চ্যানেলের মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে।
সূত্রের দাবি—সিআরআই এখন আওয়ামী কালচারাল শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে টকশোর জনপ্রিয় মুখ, সাংবাদিক, ইউটিউবার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের আর্থিক সহায়তা দিয়ে কাজে লাগানো হচ্ছে।
ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল যেমন প্রজন্ম ৭১, মঞ্চ ৭১, ব্রিগেড ৭১, জয়বাংলা ব্রিগেড, নয়া সংগ্রাম ২৫ ইত্যাদি ব্যবহার করে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। উদ্দেশ্য—অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি, বিএনপি-জামায়াত-এনসিপিকে সংঘাতে জড়ানো এবং শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা উস্কে দেওয়া।
সিআরআই শুরু থেকেই আওয়ামী লীগের প্রচারণা মেশিন হিসেবে পরিচিত। তবে বর্তমান সময়ে এটি বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে সাইবার আক্রমণ চালিয়ে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সূত্র (৩১ আগস্ট ২০২৫)
সিআরআই’র পূর্ববর্তী কার্যক্রম সম্পর্কিত প্রকাশিত নথি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ফেক কনটেন্ট পর্যবেক্ষণ
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |