| বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে আলোচনা করবে: বাণিজ্য উপদেষ্টার মন্তব্য

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 05-04-2025 ইং
  • 3743634 বার পঠিত
যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে আলোচনা করবে: বাণিজ্য উপদেষ্টার মন্তব্য
ছবির ক্যাপশন: যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে আলোচনা করবে: বাণিজ্য উপদেষ্টার মন্তব্য

যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে আলোচনা করবে: বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশ আলোচনা করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন। তিনি শনিবার (৫ এপ্রিল) মার্কিন শুল্কারোপ নিয়ে করণীয় বিষয়ে আলোচনার জন্য জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত ড. খলিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

শেখ বশির উদ্দিন বলেন, "আন্তর্জাতিকভাবে প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূসের একটি গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এই গ্রহণযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়েই প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সাথে সরাসরি বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়ে আলোচনা করবেন।" তিনি আরও বলেন, বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্য একটি উপায় হলো আমদানি বৃদ্ধি, এবং আমাদের প্রয়োজনীয় দ্রব্যের আমদানি বাড়ানো হবে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, "আমরা আমাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো পণ্য আমদানি করতে পারব না, সেটা যে পণ্যই হোক।"

বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও জানান, প্রধান উপদেষ্টার সাথে আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতিবিদরা, যারা এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন। শেখ বশির উদ্দিন বলেন, "আমদানি বৃদ্ধি করার মাধ্যমেই বাণিজ্য ঘাটতি পূরণ করা হবে।"

তৈরী পোশাক শিল্পের ওপর প্রভাব

তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কারোপের প্রভাব নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ বশির উদ্দিন বলেন, "আমাদের সাথে যারা প্রতিযোগী দেশ রয়েছে—ভিয়েতনাম, চীন, কম্বোডিয়া, এমনকি ভারত-পাকিস্তান—তাদের শুল্ক কম হলেও আমাদের পণ্যের মান ভালো। আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পের অবয়ব ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে অনেক সমৃদ্ধ।" তিনি আরও বলেন, "আমরা মনে করি, এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের পণ্যের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।"

আমদানি নীতি সংশোধন

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই আমদানি নীতি সংশোধন করেছে, যা বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সহায়ক হবে। তিনি বলেন, "আমরা চাই বাণিজ্য সামগ্রিকভাবে বৃদ্ধি পাক, এবং এজন্য আমরা নীতিগতভাবে আমদানি নীতির সংশোধন করেছি।"

যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা

এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত ড. খলিলুর রহমান জানান, "আমি যখন প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রে যাই, তখন প্রথমেই বিষয়টি স্টেট ডিপার্টমেন্টের সামনে উত্থাপন করি। তারা নিজে থেকেই তাদের কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে।" ড. খলিলুর বলেন, "আমাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমরা এখনও তাদের সঙ্গে নিবিড় আলোচনায় আছি।" তিনি আরও বলেন, "এই আলোচনার মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রতিক্রিয়া জানাবো এবং এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।"

ভবিষ্যত পরিকল্পনা

বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে আলোচনার মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য বেশ কিছু সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। বাণিজ্য উপদেষ্টার কথায়, "এ ধরনের আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আরও সুদৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব হবে।" তবে, চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে বাজারে অতিরিক্ত শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলা করা এবং রফতানি খাতে যথাযথ কৌশল গ্রহণ করা।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কারোপের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বাণিজ্যিক খাতের জন্য একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের উচিত আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের আরও প্রচার বৃদ্ধি করা এবং পাশাপাশি দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য সহায়ক নীতি প্রণয়ন করা।

আরও পড়ুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency