প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: বাঙালির মনন ও মেধার মিলনমেলা ‘অমর একুশে বইমেলা’। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ উত্তরকালে যখন বাঙালি মুসলিম ও হিন্দু সমাজ নিজেদের সাহিত্যিক পরিচয় বিনির্মাণে ব্যস্ত ছিল, তখন থেকেই বই ও সাহিত্যের প্রতি এই জাতির এক অনন্য টান ছিল। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনের রক্তঝরা পথ বেয়ে ১৯ শতকের সেই সাহিত্যিক চেতনা আজ ২০২৬ সালে এসে ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে নতুন রূপ পেয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) থেকে শুরু হচ্ছে বাঙালির প্রাণের মেলা, যা চলবে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত।
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে (১৯০০ পরবর্তী) বাংলার সাহিত্যচর্চা ছিল প্রধানত কলকাতাকেন্দ্রিক। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব বঙ্গে একটি প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী সমাজ গড়ে ওঠে। ১৯৫২ সালে ভাষার জন্য জীবন দেওয়ার পর ১৯৭২ সালে মুক্তধারা প্রকাশনীর চিত্তরঞ্জন সাহার হাত ধরে একাডেমি প্রাঙ্গণে চটের ওপর যে মেলার সূচনা হয়েছিল, তা আজ ২০২৬ সালে এসে এক মহীরুহে পরিণত হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব পরবর্তী ২০২৬ সালের এই মেলা কেবল বই কেনাবেচার নয়, বরং একটি স্বাধীন ও সংস্কারমুখী বাংলাদেশের চিন্তা প্রকাশের মঞ্চ। ১৯ শতকের গোড়ায় বাঙালি লেখকরা যেমন ব্রিটিশ বিরোধী লেখনীতে সোচ্চার ছিলেন, ২০২৬ সালের এই ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ মেলায় তেমনি নতুন প্রজন্মের বিপ্লব ও সংস্কারের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
আজ দুপুর ২টায় প্রধান অতিথি হিসেবে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই অনুষ্ঠানে তিনি যোগ্য সাহিত্যিকদের হাতে 'বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫' তুলে দেবেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেবেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম এবং সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।
এবারের মেলায় মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে, যাদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১,০১৮টি ইউনিট।
শিশু চত্বর: ৬৩টি প্রতিষ্ঠান ও ১০৭টি ইউনিট নিয়ে সাজানো হয়েছে শিশুদের জগত।
লিটলম্যাগ চত্বর: ৮৭টি লিটলম্যাগ স্টল সৃজনশীলতার আলো ছড়াবে।
জিরো ওয়েস্ট ও পলিথিনমুক্ত: এবারের মেলাকে সম্পূর্ণ ‘জিরো ওয়েস্ট’ ও ধূমপানমুক্ত হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
রমজানের বিশেষ ব্যবস্থা: মেলা চলাকালীন রমজান পড়ায় দর্শনার্থীদের জন্য তারাবির নামাজের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭তম বার্ষিকী ও বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় ঘোষণা করেছেন। মেলায় ৩০০টি সিসি ক্যামেরা, আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টর এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে। ডগ স্কোয়াড, সোয়াট এবং সিটিটিসি প্রস্তুত থাকবে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায়। বিশেষ করে ধর্ম অবমাননাকর বা উসকানিমূলক বইয়ের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
সাধারণ দিন: দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা (প্রবেশ বন্ধ রাত ৮:৩০)।
ছুটির দিন: সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা।
প্রবেশ পথ: টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্লান্ট ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন।
রাজনৈতিক ও সাহিত্যিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সালের দীর্ঘ পথচলায় বইমেলা কেবল বইয়ের মেলা থাকেনি, এটি হয়ে উঠেছে বাঙালির রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার যেভাবে বইমেলাকে ‘বহুমাত্রিক’ রূপ দিচ্ছে, তা ২০২৪-এর বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে নতুন বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ গঠনে সহায়ক হবে। পিলখানা দিবসের শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে একটি নিরাপদ ও মুক্তবুদ্ধির বইমেলা উপহার দেওয়াই এখন প্রশাসনের বড় চ্যালেঞ্জ।
সূত্র: কালবেলা অনলাইন, বাংলা একাডেমি জনসংযোগ বিভাগ, ডিএমপি মিডিয়া সেল এবং ঐতিহাসিক সাহিত্য আর্কাইভ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |