| বঙ্গাব্দ

ভারত থেকে আসছে ৫ হাজার টন ডিজেল: জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় পাইপলাইনের কার্যকর ব্যবহার |

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 10-03-2026 ইং
  • 768337 বার পঠিত
ভারত থেকে আসছে ৫ হাজার টন ডিজেল: জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় পাইপলাইনের কার্যকর ব্যবহার |
ছবির ক্যাপশন: ভারত থেকে আসছে ৫ হাজার টন ডিজেল

ভারত থেকে আসছে ৫ হাজার টন ডিজেল: জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় পাইপলাইনের কার্যকর ব্যবহার

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে যখন জ্বালানি তেলের সরবরাহ চেইন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, তখন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এক আশাব্যঞ্জক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরাসরি দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে আসছে।

১. পাইপলাইন চালুর প্রভাব ও সরবরাহ প্রক্রিয়া

২০২৩ সালের মার্চ মাসে উদ্বোধন হওয়া এই ১৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনটি বর্তমান সংকটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিপিসির তথ্য অনুযায়ী:

  • পাম্পিং কার্যক্রম: সোমবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়ায় প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১১৩ মেট্রিক টন ডিজেল বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

  • সময়ের সাশ্রয়: আগে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে যে জ্বালানি আনা হতো, পাইপলাইনের ফলে পরিবহন সময় ও খরচ উভয়ই উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে। এটি জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করেছে।

২. সংকটের স্বরূপ ও হঠাৎ বেড়ে যাওয়া চাহিদা

বর্তমানে বাংলাদেশের দৈনিক ডিজেলের চাহিদা স্বাভাবিক সময়ে ১২ থেকে ১৩ হাজার মেট্রিক টন। তবে বিশ্ববাজারে অস্থিরতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর জনগণের মধ্যে আতঙ্ক বা ‘প্যানিক বায়িং’-এর প্রবণতা দেখা দেওয়ায় গত কয়েক দিনে চাহিদা হঠাৎ করে ২০ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছিল। এই বাড়তি চাহিদাকে সামাল দিতে ও বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভারতের এই ডিজেল সরবরাহ একটি বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে।

৩. জ্বালানি নিরাপত্তার নতুন সমীকরণ

বাংলাদেশে মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশই হলো ডিজেল। ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের বাৎসরিক প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল পরিবহনের যে সক্ষমতা রয়েছে, তা দেশের উত্তর জনপদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে বড় ভূমিকা রাখছে। রেল বা সড়কপথের চেয়ে পাইপলাইন পদ্ধতি হওয়ায় জ্বালানি লস (অপচয়) অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে।

বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ:

২০২৬ সালের এই যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানি তেলের মজুদ ঠিক রাখা যেকোনো রাষ্ট্রের জন্য বড় পরীক্ষা। ভারত থেকে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে এই ৫ হাজার টন ডিজেল আসা কেবল একটি বাণিজ্যিক লেনদেন নয়, বরং এটি প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে গড়ে ওঠা শক্তিশালী কৌশলগত জ্বালানি অংশীদারিত্বের প্রমাণ। সরকার যদি নিয়মিত এই পাইপলাইন ব্যবহারের মাধ্যমে মজুত সক্ষমতা আরও বাড়াতে পারে, তবে বিশ্ববাজারে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে খুব একটা পড়বে না। তবে জনমনে আতঙ্ক দূর করতে বিপিসিকে নিয়মিত সরবরাহের আপডেট জনসম্মুখে প্রকাশ করা জরুরি।


তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগ (১০ মার্চ ২০২৬) ও পালস বাংলাদেশ এনার্জি অ্যানালিটিক্স।

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব বিষয়ক আপডেট পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: ওয়েবসাইটে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency