প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দেশজুড়ে শুরু হওয়া সহিংসতা, নির্যাতন ও ধর্ষণের প্রতিবাদে আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাজপথে নামছে ১১ দলীয় জোট। বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন নিশ্চিত করেছেন যে, আজকের এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে জামায়াতের আমির ও সম্ভাব্য বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। মূলত নির্বাচন-পরবর্তী বিশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিতেই এই জরুরি কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ও সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচন পরবর্তী মাত্র দুই দিনে দেশের ৩০টি জেলায় সহিংসতার ঘটনায় শিশুসহ অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার পাশাপাশি নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলো জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯০০ সালের ব্রিটিশ ভারতের নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক নির্বাচন পর্যন্ত বহু চড়াই-উতরাই এসেছে। তবে এবারের নির্বাচনের পরিসংখ্যান অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ:
আসন বিন্যাস: নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২টি এবং জামায়াত জোট ৭৭টি আসন লাভ করেছে। দলভিত্তিক হিসেবে বিএনপি ২০৯টি এবং জামায়াত ৬৮টি আসনে জয়ী হয়ে দেশের প্রধান দুই শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এছাড়া এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং অন্যান্য দলসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়লাভ করেছেন।
ভোটের হার: নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছে ৫৯.৪৪ শতাংশ। এর মধ্যে বিএনপি ৪৯.৯৭ শতাংশ এবং জামায়াত ৩১.৭৬ শতাংশ ভোট পেয়ে জনরায়ের প্রতিফলন ঘটিয়েছে। এছাড়া একই সাথে অনুষ্ঠিত গণভোটে ৬০.২৬ শতাংশ ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
বিক্ষোভের প্রাক্কালে ১১ দলীয় জোটের নেতারা বলছেন, ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের লক্ষ্য ছিল একটি নিরাপদ ও স্বাধীন রাষ্ট্র। কিন্তু ২০২৬ সালে এসেও নির্বাচনের পর নাগরিকদের রক্ত ঝরা এবং লাঞ্ছিত হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই অবনতিকে জোটটি ‘নজিরবিহীন’ বলে উল্লেখ করেছে।
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান এর আগে এক বার্তায় বলেছিলেন, "নির্বাচন শেষ হয়েছে, এখন আমাদের লক্ষ্য শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়া কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।"
সূত্র: জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ, এইচআরএসএস (HRSS) প্রতিবেদন, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) এবং বাসস (BSS)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |