নিজস্ব প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় লাভের মাধ্যমে এককভাবে সরকার গঠনে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিশ্ববিখ্যাত সংবাদ সংস্থা 'রয়টার্স'-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের কোনো পরিকল্পনা তার নেই।
তারেক রহমান প্রশ্ন তুলে বলেন, "আমি কীভাবে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিয়ে সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধী দলে কে থাকবে?" তিনি আরও যোগ করেন, "আমি জানি না তাদের আসন সংখ্যা কত হবে, তবে তারা যদি বিরোধী দলে থাকে, আমি আশা করি তারা একটি গঠনমূলক ও ভালো বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে।"
বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯০০ সালের পর থেকে এই ভূখণ্ডে বারবার ক্ষমতার মেরুকরণ ঘটেছে। ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের জন্ম থেকে শুরু করে ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ এবং ১৯৭৮ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠা—প্রতিটি বাঁকই ছিল জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
দীর্ঘ দেড় যুগের নির্বাসন শেষে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দেশে ফেরা তারেক রহমান এখন ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের প্রধান আকর্ষণ। বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৯০০ সালের সেই স্বাধিকার চেতনা থেকে শুরু করে ২০২৪-এর বিপ্লব পর্যন্ত জনগণের মূল দাবি ছিল একটি সুষ্ঠু নির্বাচন এবং ভোটের অধিকার, যা ২০২৬ সালে সার্থক হতে চলেছে।
রয়টার্স স্মরণ করিয়ে দেয়, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী জোটবদ্ধভাবে সরকার চালিয়েছিল। তবে ২০২৪-এর প্রেক্ষাপটে জামায়াত জাতীয় ঐক্যের সরকারের প্রস্তাব দিলেও তারেক রহমান একক শাসনের পক্ষেই মত দিয়েছেন। বিএনপি এবার ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টিতে নিজস্ব প্রার্থী দিয়েছে, বাকিগুলো ছেড়েছে মিত্রদের। দলের অভ্যন্তরীণ জরিপ অনুযায়ী, বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত।
শেখ হাসিনাকে ভারতের আশ্রয় দেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে ঢাকার আদালতে তার মৃত্যুদণ্ডাদেশের ফলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে তারেক রহমানের অবস্থান অত্যন্ত কৌশলী। তিনি স্পষ্ট করেছেন, বিএনপি কোনো নির্দিষ্ট দেশের দিকে ঝুঁকবে না।
তিনি বলেন, "বাংলাদেশের ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সক্ষম এমন অংশীদার আমাদের প্রয়োজন। যে দেশ বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে আমার দেশের জন্য উপযোগী প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই আমাদের বন্ধুত্ব থাকবে।"
বাংলাদেশে আশ্রিত ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, "আমরা চাই তারা নিরাপদ পরিস্থিতিতে নিজ দেশে ফিরে যাক। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত মিয়ানমারে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, ততক্ষণ তারা এখানে থাকতে স্বাগত।" তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের মানবিক ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করেছে।
সূত্র: রয়টার্স সাক্ষাৎকার, নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেসক, আল-জাজিরা ও টাইম ম্যাগাজিন (২০২৬-এর বিশেষ প্রতিবেদন)।
বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের এই নির্বাচনটি বাংলাদেশের জন্য একটি 'এসিড টেস্ট'। তারেক রহমানের এই সাক্ষাৎকার প্রমাণ করে যে, বিএনপি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিণত এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ নীতি গ্রহণে সচেষ্ট। ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের চূড়ান্ত ফসল হিসেবে এই নির্বাচনটি দেশ পুনর্গঠনে মাইলফলক হতে পারে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |