নিজস্ব প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন উত্তরাঞ্চল। দীর্ঘ ১৯ বছর পর পৈতৃক ভিটা বগুড়া এবং ২২ বছর পর রেশম নগরী রাজশাহীতে ফিরছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া তার এই তিন দিনের সফরকে ঘিরে উত্তর জনপদে বইছে উৎসবের আমেজ। ১৯০০ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ২০২৬-এর এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে তারেক রহমানের এই সফরকে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চূড়ান্ত অভিযাত্রা’ হিসেবে দেখছেন দলটির নেতাকর্মীরা।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে ঢাকা থেকে বিমানে রাজশাহী পৌঁছাবেন তারেক রহমান। দুপুর দেড়টায় তিনি হযরত শাহ মাখদুম (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর রাজশাহী মাদরাসা মাঠে মহানগরী ও চারটি জেলা আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন তিনি। দীর্ঘ দুই দশক পর নেতার আগমনে রাজশাহী এখন জনসমুদ্রে পরিণত হওয়ার অপেক্ষায়। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু জানিয়েছেন, তারেক রহমানের এই সফর এ অঞ্চলের নির্বাচনী সমীকরণ বদলে দেবে।
আজ সন্ধ্যার পর দীর্ঘ ১৯ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নিজের নির্বাচনী এলাকা বগুড়ায় পৌঁছাবেন তারেক রহমান। বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে তিনি এবার প্রার্থী হয়েছেন। আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত জনসভা ঘিরে পুরো জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে এক ব্যতিক্রমী উৎসব। জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, “বগুড়া হচ্ছে শহীদ জিয়ার দুর্গ। বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি হিসেবে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে বগুড়াবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।”
বগুড়ায় পৌঁছে তারেক রহমান শহরের বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদ, দত্তবাড়ী শহীদ জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতাল ও জেলা কার্যালয় পরিদর্শন করবেন। রাত্রি যাপন করবেন বগুড়া নাজ গার্ডেনে।
তারেক রহমানের এই সফরসূচি অত্যন্ত ব্যস্ত এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ:
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি): রাজশাহী মাদরাসা মাঠ, নওগাঁর এটিম মাঠ এবং রাতে বগুড়ার আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে সমাবেশ।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি): সকালে বগুড়া সদরের চারমাথা, বারপুর ও সাবগ্রামে গণসংযোগ। এরপর গাবতলীর বাগবাড়ীতে পৈতৃক ভিটা পরিদর্শন। বিকেলে রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও রংপুর ঈদগাহ মাঠে জনসভা।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি): সিরাজগঞ্জের বিসিক শিল্পপার্ক ও টাঙ্গাইলের দরুন চরজানা বাইপাসে বিশাল নির্বাচনী জনসভা শেষে রাতে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন।
[Image: BNP Chairman Tareque Rahman addressing a massive election rally in North Bengal, January 2026]
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তনে উত্তরাঞ্চলের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ১৯০০ সালের কৃষক আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আবু সাঈদের আত্মত্যাগ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই উত্তরবঙ্গ বিপ্লবের সূতিকাগার। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে তারেক রহমানের সশরীরে অংশগ্রহণ বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। ১৯ বছর আগে ২০০৬ সালে তিনি শেষবার বগুড়ায় দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তার এই ফেরা কেবল নির্বাচনী প্রচারণা নয়, বরং দলটির অস্তিত্বের লড়াইয়ের চূড়ান্ত রূপ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই সফর উত্তরবঙ্গের আসনগুলোতে বড় প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর সাথে আসন সমঝোতা এবং ১১ দলীয় জোটের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের মুখে বিএনপির একক অবস্থান শক্তিশালী করতে এই সফর অত্যন্ত কার্যকরী। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, এই নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশ দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে মুক্তি পাবে।
সূত্র: ১. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) বিশেষ নির্বাচনী বুলেটিন, ২৮-২৯ জানুয়ারি ২০২৬। ২. কালের কণ্ঠ ও প্রথম আলো (অনলাইন আর্কাইভ), জানুয়ারি ২০২৬। ৩. বিএনপি মিডিয়া সেল ও জেলা বিএনপি প্রচার বিভাগ। ৪. আফরাসিয়াব মেহদী হাশমী, 1971 Fact and Fiction (ঐতিহাসিক রেফারেন্স)। ৫. গুগল নিউজ এনালিটিক্স (রাজনৈতিক ট্রেন্ড ২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |