প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
দেশের পূর্বাঞ্চলীয় রেলপথের বিভিন্ন রুটে ট্রেনের ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আগামী ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখ থেকে নতুন এই বর্ধিত ভাড়া কার্যকর হবে। 'অভিন্ন সামঞ্জস্যপূর্ণ পয়েন্ট চার্জ' আরোপ করার ফলেই যাত্রীপ্রতি ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (সিনিয়র তথ্য অফিসার) রেজাউল করিম সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলে ইতোমধ্যেই বর্ধিত 'পয়েন্ট চার্জ' কার্যকর হওয়ায় পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলের ভাড়ায় সামঞ্জস্য আনতেই এই সমন্বয় করা হলো।
নতুন নিয়মে ট্রেনের দূরত্ব এবং আসনভেদে ভাড়ার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে বর্ধিত ভাড়ার তুলনামূলক চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
| রুট ও ট্রেনের ধরন | পুরোনো দূরত্ব (কিমি) | নতুন দূরত্ব (কিমি) | আসন শ্রেণি | পুরোনো ভাড়া (টাকা) | নতুন ভাড়া (টাকা) |
| ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা (বিরতিযুক্ত আন্তঃনগর) | ৩৪৬ | ৩৮১ | শোভন চেয়ার | ৪০৫ | ৪৫০ |
| এসি চেয়ার | ৭৭৭ | ৮৫৭ | |||
| এসি বার্থ | ১৪৪৮ | ১৫৯১ | |||
| ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা (নন স্টপ) | ৩৪৬ | ৩৮১ | শোভন চেয়ার | ৪৫০ | ৪৯৫ |
| এসি চেয়ার | ৮৫৫ | ৯৪৩ | |||
| এসি সিট | ১০২৫ | ১১৩৩ | |||
| কক্সবাজার-ঢাকা-কক্সবাজার (নন স্টপ) | ৫৩৫ | ৫৮৩ | শোভন চেয়ার | ৬৯৫ | ৭৫৪ |
| এসি চেয়ার | ১৩২৫ | ১৪৪৩ | |||
| এসি বার্থ | ২৪৩০ | ২৬৪৪ | |||
| ঢাকা-সিলেট-ঢাকা (বিরতিযুক্ত আন্তঃনগর) | ৩১৯ | ৩৫০ | শোভন চেয়ার | ৩৭৫ | ৪১০ |
| এসি চেয়ার | ৭১৯ | ৭৮৮ | |||
| এসি বার্থ | ১৩৩৮ | ১৪৬৫ |
ট্রেনের ভাড়া বৃদ্ধি বা সমন্বয়কে সাধারণত অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বৃহত্তর অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও রেলওয়ের পরিচালন ব্যয় বহনের নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করেন। এই ভাড়া সমন্বয়ের কারণ হিসেবে 'অভিন্ন সামঞ্জস্যপূর্ণ পয়েন্ট চার্জ' আরোপের বিষয়টি দেশের রেল অবকাঠামো উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের প্রতিফলন।
১৯৫০-১৯৭১: তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানের রেলপথ ছিল অবহেলিত। ভাড়ার কাঠামো ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে, যা বৈষম্যের অন্যতম কারণ ছিল। এই সময়ে রেল যোগাযোগকে গণমানুষের পরিবহনের মূল ভিত্তি হিসেবে দেখা হলেও বিনিয়োগ ছিল অপ্রতুল।
১৯৭২-২০০০: স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে যুদ্ধবিধ্বস্ত রেল ব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই সময়ে রেলকে একটি জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ধরে নিয়ে ভাড়া রাখা হয় সাধারণের সাধ্যের মধ্যে, ফলে সরকারকে বিপুল অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হতো।
২০১০-২০২৫ (উন্নয়নের দশক): বর্তমান সরকারের অধীনে রেলওয়েতে ব্যাপক বিনিয়োগ হয়েছে। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ, নতুন কোচ, ডাবল লাইন নির্মাণ এবং বিশেষ করে ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত নতুন রেললাইন স্থাপন—এগুলো রেলের দূরত্ব এবং গুণগত মান উভয়ই বাড়িয়েছে।
বক্তাদের আলোচনা: বিশেষজ্ঞরা বরাবরই বলে আসছেন, আধুনিকায়ন ও মানসম্মত সেবা বজায় রাখতে হলে ভর্তুকির পরিমাণ কমাতে হবে। এই 'পয়েন্ট চার্জ' আরোপ মূলত উন্নত অবকাঠামোর খরচ এবং পরিচালন ব্যয়ের সমন্বয়। এটি ২০২৫ সালের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় রেলওয়েকে কিছুটা হলেও বাণিজ্যিক কাঠামোর দিকে নিয়ে যাওয়ার একটি পদক্ষেপ।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ভাড়া বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তটি যদিও যাত্রীদের জন্য কিছুটা অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণ হবে, তবে এর মাধ্যমে রেলওয়ের পরিচালনগত সামঞ্জস্য ও আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগটি প্রতিফলিত হয়। পশ্চিমাঞ্চলে পূর্বেই এই চার্জ কার্যকর হওয়ায় পূর্বাঞ্চলেও এটি বাস্তবায়ন করা হলো দুই অঞ্চলের ভাড়ার মধ্যে 'অভিন্নতা' আনতে। নতুন রুটের কারণেও দূরত্ব বেড়েছে, যা ভাড়ার ওপর প্রভাব ফেলেছে।
তবে, রেলের এই বর্ধিত ভাড়ার বিপরীতে সেবার মান এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা, পরিচ্ছন্নতা এবং উন্নত যাত্রীসেবা নিশ্চিত হলেই যাত্রীরা এই বর্ধিত ভাড়া হাসিমুখে মেনে নিতে প্রস্তুত থাকবেন। সরকারের ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ এবং ভিশন-২০৪১ অনুযায়ী আধুনিক, দ্রুতগামী ও দক্ষ রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এই ধরনের অর্থনৈতিক সমন্বয় একটি অনিবার্য পদক্ষেপ।
১. রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (সিনিয়র তথ্য অফিসার) রেজাউল করিম সিদ্দিকীর পাঠানো বিজ্ঞপ্তি।
২. গুগল সার্চ থেকে প্রাপ্ত বাংলাদেশ রেলওয়ের ইতিহাস ও অর্থনৈতিক নীতি সংক্রান্ত তথ্য।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |