গণপরিষদ নয়, তবে আগামী সংসদের থাকবে বিশেষ ‘গাঠনিক ক্ষমতা’: অ্যাডভোকেট শিশির মনির
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আগামী জাতীয় সংসদ গণপরিষদ হিসেবে নয়, তবে একটি বিশেষ সাংবিধানিক ক্ষমতা (গাঠনিক পাওয়ার) পাবে—যা সংবিধান সংশোধনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
তিনি বলেন, “এ সংসদ গণপরিষদ নয়, কিন্তু কনস্টিটুয়েন্ট অ্যাসেম্বলির মতো সাময়িক একটি ক্ষমতা থাকবে সংবিধান সংশোধনের জন্য।”
বুধবার (৮ অক্টোবর) দৈনিক যুগান্তরকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন,
“এটা গণপরিষদ হবে না, সংসদই থাকবে, তবে তার একটি ক্ষমতা থাকবে—কনস্টিটুয়েন্ট অ্যাসেম্বলির মতো। সাংবিধানিক যেসব মৌলিক সংশোধনের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো এই ক্ষমতা না থাকলে করা সম্ভব নয়। তাই আমরা গণভোটের প্রস্তাব করছি।”
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন,
“এই সংসদের দুটি কাজ থাকবে—প্রথমত, এটি সাধারণ সংসদের মতো আইন প্রণয়ন করবে; দ্বিতীয়ত, একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এর গাঠনিক ক্ষমতা থাকবে, যাতে সংবিধান সংস্কারের মতো বড় পরিবর্তন আনা যায়।”
শিশির মনির জানান, নতুন কাঠামো অনুযায়ী দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ (Bicameral Parliament) গঠনের প্রস্তাব করা হচ্ছে—
একটি হবে উচ্চকক্ষ (Upper House),
আরেকটি নিম্নকক্ষ (Lower House)।
তিনি বলেন,
“নির্বাচনের পর প্রথম অধিবেশনেই এই গাঠনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব পাস হবে। এরপর সংসদ স্বাভাবিক কাঠামোয় ফিরে আসবে এবং উচ্চকক্ষ–নিম্নকক্ষ উভয় ব্যবস্থায় পরিচালিত হবে।”
এই দ্বিকক্ষ ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া হবে আরও বহুমাত্রিক, আলোচনামূলক ও দায়বদ্ধ।
গণভোট কীভাবে হবে—এই প্রশ্নে শিশির মনির বলেন,
“আমাদের দেশে পূর্বেও তিনবার গণভোট হয়েছে—শহীদ জিয়াউর রহমান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও খালেদা জিয়ার সময়ে। এবারও সেই ধারা অনুসরণ করা হবে।”
তিনি ব্যাখ্যা করেন:
জিয়াউর রহমানের সময় (১৯৭৭): প্রশ্ন ছিল, “প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের গৃহীত সব নীতি ও কর্মপদ্ধতির সঙ্গে আপনি একমত কি না?”
এরশাদ সরকারের সময় (১৯৮৫): একই রকম একক প্রশ্নের মাধ্যমে সমর্থন চাওয়া হয়েছিল।
খালেদা জিয়ার সময় (১৯৯১): প্রেসিডেন্সিয়াল থেকে পার্লামেন্টারি পদ্ধতিতে ফেরার গণভোটও একক প্রশ্নে হয়েছিল।
শিশির মনির বলেন,
“আগামী গণভোটেও আলাদা আলাদা নয়, বরং পুরো ‘জুলাই সনদে’ অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো একসঙ্গে উপস্থাপন করা হবে। জনগণ ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলবে।”
‘জুলাই সনদ’ নামে পরিচিত এই সাংবিধানিক সংস্কার কাঠামোতে প্রস্তাব রয়েছে—
নির্বাচনী ব্যবস্থার পুনর্গঠন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা,
প্রশাসনিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ,
উচ্চ আদালতের স্বাধীনতা বৃদ্ধি,
দুর্নীতি দমন কমিশন ও নির্বাচন কমিশনের কার্যকর পুনর্গঠন,
স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা বৃদ্ধি ও সংসদীয় জবাবদিহিতা।
শিশির মনির বলেন,
“সংবিধান সংশোধন একদিনের কাজ নয়। তবে আগামী সংসদ যদি সাময়িকভাবে গাঠনিক ক্ষমতা পায়, তাহলে এসব কাঠামোগত পরিবর্তন দ্রুত করা সম্ভব হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রস্তাব বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তানজিম হায়দার বলেন,
“গণপরিষদের বিকল্প হিসেবে সংসদকে গাঠনিক ক্ষমতা দেওয়া হলে সেটি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার পাশাপাশি সংস্কারের পথ খুলে দেবে। তবে এই ক্ষমতা কতটা সীমিত এবং কীভাবে প্রয়োগ হবে, সেটিই মূল প্রশ্ন।”
অ্যাডভোকেট শিশির মনিরের বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী সংসদ একটি ‘গাঠনিক সংসদ’ হিসেবে সংবিধান সংশোধনের দায়িত্ব পেতে পারে, তবে এটি স্থায়ী নয়—বরং গণভোটের মাধ্যমে জনসমর্থন নিশ্চিত করেই কার্যকর হবে।
এর মধ্য দিয়েই সম্ভবত বাংলাদেশ নতুন এক সংবিধান সংস্কার অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।
“আগামী সংসদে থাকবে সাময়িক সাংবিধানিক ক্ষমতা: শিশির মনির” — দৈনিক যুগান্তর, ৮ অক্টোবর ২০২৫
“Constituent Power Proposed for Next Parliament” — The Business Standard, ৮ অক্টোবর ২০২৫
“Referendum Model to be Similar to 1991: Advocate Shishir Monir” — Dhaka Tribune, ৮ অক্টোবর ২০২৫
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |