| বঙ্গাব্দ

আগামী ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন, নতুন সরকারের কোনো পদে থাকবেন না ড. মুহাম্মদ ইউনূস

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 21-08-2025 ইং
  • 3402216 বার পঠিত
আগামী ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন, নতুন সরকারের কোনো পদে থাকবেন না ড. মুহাম্মদ ইউনূস
ছবির ক্যাপশন: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

আগামী ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন: নতুন সরকারের কোনো পদে থাকবেন না ড. মুহাম্মদ ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক | ২১ আগস্ট ২০২৫

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং নির্বাচনের পরবর্তী সরকারে তিনি কোনো পদে থাকবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেসারেট নিউজ-এ প্রকাশিত নিবন্ধে তিনি এ ঘোষণা দেন।

ড. ইউনূস লিখেছেন—
“আমি শুরু থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছি, জাতীয় নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারিতেই হবে। এই নির্বাচনের পরবর্তী সরকারে আমি কোনো পদে থাকব না, নির্বাচিত বা নিযুক্ত—কোনো ভূমিকাতেই নয়। আমাদের সরকারের একমাত্র উদ্দেশ্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করা।”

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

ড. ইউনূস নিবন্ধে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথচলা এখন শুধু দেশের ভেতরে নয়, গোটা বিশ্বের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। দীর্ঘ স্বৈরশাসনের অবসানের পর আন্তর্জাতিক মহল বাংলাদেশের ইতিবাচক অগ্রগতি লক্ষ্য করেছে। ২০২৪ সালে দ্য ইকোনমিস্ট বাংলাদেশকে “কান্ট্রি অব দ্য ইয়ার” ঘোষণা করে।

সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার

  • স্বৈরশাসনের সময় নিহত ও আহত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।

  • লুটপাট হওয়া বিলিয়ন ডলার উদ্ধারে পদক্ষেপ নেওয়া।

  • ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে প্রতিবছর ১০-১৫ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে।

রাষ্ট্রযন্ত্রের অবস্থা ও পুনর্গঠন

দায়িত্ব গ্রহণের পর রাষ্ট্রযন্ত্রের ভাঙাচোরা চিত্র দেখে স্তম্ভিত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন ড. ইউনূস। তিনি জানান—

  • পুলিশ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল।

  • বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল।

  • অর্থনীতি ছিল বিপর্যস্ত।

  • হাজার হাজার মানুষ রাষ্ট্রীয় নির্যাতনকেন্দ্রে অমানবিক যন্ত্রণা ভোগ করছিল।

তবু হতাশার মাঝেই আশার আলো ফুটেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্যোগ, সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের পথে এগোচ্ছে বলে জানান তিনি।

আসন্ন নির্বাচন ও লক্ষ্য

ড. ইউনূস জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনের একমাত্র লক্ষ্য হলো—

  • একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন

  • প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।

  • প্রতিটি নাগরিককে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া, প্রবাসী বাংলাদেশিরাও যাতে ভোটে অংশ নিতে পারেন সেই ব্যবস্থা করা।

পররাষ্ট্রনীতি ও সংস্কার পরিকল্পনা

তিনি বলেন, বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রনীতি ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ার ওপর জোর দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘ বাংলাদেশের পাশে রয়েছে। পাশাপাশি একটি বৃহৎ সংস্কার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সংবিধান সংশোধন উদ্যোগ, যাতে ভবিষ্যতে দেশ আবার স্বৈরতন্ত্রে না ফেরে।

তরুণ প্রজন্মই অনুপ্রেরণা

ড. ইউনূস তরুণ প্রজন্মকে দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি উল্লেখ করে বলেন—
“জেনারেশন জেড কেবল বাংলাদেশ নয়, গোটা বিশ্বকে বদলে দিতে পারে। তারা যদি জেনারেশন এক্স, মিলেনিয়ালস এবং আলফা প্রজন্মের সঙ্গে একত্র হয়, তবে একটি পৃথিবী গড়ে উঠবে যেখানে থাকবে তিন শূন্য: শূন্য বেকারত্ব, শূন্য দারিদ্র্য ও শূন্য কার্বন নিঃসরণ।”

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency