প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লব এবং ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন—বাংলার প্রতিটি রাজনৈতিক বাঁকই নতুন কোনো জোট বা আদর্শিক মেরুকরণের জন্ম দিয়েছে। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট করে আলোচনায় আসা 'জাতীয় নাগরিক পার্টি' (এনসিপি) এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে টক অফ দ্য টাউন। নির্বাচনের রেশ না কাটতেই গুঞ্জন উঠেছে, তবে কি স্থায়ী রাজনৈতিক জোটে যাচ্ছে এই দুই দল?
বাংলার রাজনীতিতে জোটের ইতিহাস বেশ পুরনো। ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাব এবং ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন—বাঙালি সবসময়ই বৃহত্তর স্বার্থে জোটবদ্ধ হয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশেও ১৯৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তিন জোটের রূপরেখা ছিল মাইলফলক।
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর ২০২৬ সালের এই নতুন রাজনৈতিক মানচিত্রে এনসিপি এবং জামায়াতের নির্বাচনী ঐক্য একটি বিশেষ সিগন্যাল দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৬ সালের এই প্রেক্ষাপট মূলত ১৯ শতকের শুরু থেকে চলে আসা স্বাধিকার আন্দোলনেরই এক আধুনিক ও সংস্কারমুখী সংস্করণ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল এনসিপি। নির্বাচনের পর এখন দলের ভবিষ্যৎ রণকৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত সময় পার করছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। বিশেষ করে পদত্যাগ করা নেতাদের ফিরিয়ে আনা এবং সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক বৈঠকের সূচি চূড়ান্ত করেছে দলটি।
আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ একটি বিশেষ বৈঠকে বসছে এনসিপি। সেখানে অংশ নেবেন নির্বাচনে লড়া ৩০ জন প্রার্থী এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। ওই বৈঠকেই নির্ধারিত হবে জামায়াতের সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ।
জামায়াতের সঙ্গে স্থায়ী রাজনৈতিক জোটের বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, "জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি বিশেষ বৈঠকে আমরা মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও আগামী দিনের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করব।"
দলের মিডিয়া সমন্বয়ক মাহবুব আলম আরও স্পষ্ট করে বলেন, "জামায়াতের সঙ্গে আমরা নির্বাচনী জোটে গিয়েছিলাম, তবে আদর্শিক জোট হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমাদের লক্ষ্যগুলো কমন—যেমন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন। এই লক্ষ্য পূরণে আমরা একসঙ্গে কাজ করে যাব।"
গুগল অ্যানালাইসিস এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ট্রেন্ড বলছে, ২০২৬ সালের এই সংসদে ছোট দলগুলো বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ১৯ শতকের গোড়ার দিকে যেমন কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের বাইরেও কৃষক প্রজা পার্টির মতো দলগুলো প্রভাব বিস্তার করেছিল, বর্তমান বাংলাদেশেও এনসিপির মতো নতুন দলগুলো তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত ও এনসিপির মধ্যকার সম্পর্ক কেবল 'নির্বাচনী সমঝোতা' না কি 'রাজনৈতিক মিত্রতা' হবে, তা নির্ভর করছে 'জুলাই সনদ' বা ২০২৪-এর বিপ্লবের লক্ষ্যগুলো কতটা বাস্তবায়িত হয় তার ওপর।
সূত্র: যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ, গুগল নিউজ (পলিটিক্যাল অ্যানালাইসিস), নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও এনসিপি প্রেস রিলিজ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |