| বঙ্গাব্দ

হারুন ছিলেন ‘জিন’: রাজনৈতিক দমন অভিযানে প্রধান ভূমিকা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 04-08-2025 ইং
  • 4273454 বার পঠিত
হারুন ছিলেন ‘জিন’: রাজনৈতিক দমন অভিযানে প্রধান ভূমিকা
ছবির ক্যাপশন: হারুন ছিলেন ‘জিন

জিন’ নামে পরিচিত ছিলেন হারুন: রাতভর বৈঠকে দমন পরিকল্পনার কেন্দ্রে ছিলেন ডিবি প্রধান

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
📅 তারিখ: ৬ আগস্ট ২০২৫
📰 বিশেষ প্রতিবেদন

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে ‘জিন’ নামে ডাকতেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। কারণ? তিনি ছিলেন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সবচেয়ে দ্রুত, কঠোর ও নির্ভরযোগ্য কর্মকর্তা।

এমন বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে। মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) আদালত সূত্রে পাওয়া গেছে এই জবানবন্দির অংশবিশেষ।


রাতভর গোপন বৈঠক, দমন পরিকল্পনার আঁতুড়ঘর

জবানবন্দিতে মামুন উল্লেখ করেন, ১৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন রাত ৯টার পর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ধানমন্ডির বাসভবনে চলত গোপন বৈঠক।
উপস্থিত থাকতেন—

  • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম

  • র‌্যাবের ডিজি

  • আনসারের ডিজি

  • এনটিএমসি প্রধান জিয়াউল আহসান

  • এবং ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ

এই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয়, গণআন্দোলনের কেন্দ্রীয় ছয় সমন্বয়ককে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হবে এবং সেখানে তাদের মানসিকভাবে ভেঙে ফেলে আন্দোলন প্রত্যাহারে বাধ্য করা হবে।


হারুন ছিলেন দমন অভিযানের ‘অস্ত্র’

মামুনের ভাষ্য মতে—

“হারুন অর রশীদকে মন্ত্রী সাহেব ‘জিন’ নামে ডাকতেন। কারণ, রাজনৈতিক নির্দেশ বাস্তবায়নে তিনি ছিলেন সবচেয়ে কার্যকর।”

“আন্দোলনের সমন্বয়কারীদের আটক, জিজ্ঞাসাবাদ, গণমাধ্যমে বিবৃতি দেওয়ানো—সব পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন হারুন।”

হারুন অর রশীদ এর আগে থেকেই বিতর্কিত ছিলেন ডিএমপি যুগ্ম কমিশনার থাকা অবস্থায়। তবে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে রাজনৈতিক ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’-এর জন্য তাঁকেই প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়।


রাজসাক্ষী হলেন সাবেক আইজিপি

চাঞ্চল্যকরভাবে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন নিজের অপরাধের দায় স্বীকার করে বলেছেন—

“আমি মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় নিচ্ছি এবং এই মামলায় রাজসাক্ষী হতে চাই।”

“গণঅভ্যুত্থানের সময় যে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত ট্রাইব্যুনালের সামনে তুলে ধরব।”

এ আবেদনের পর ট্রাইব্যুনাল তাকে রাজসাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে কারাগারে আলাদা কক্ষে রাখার নির্দেশ দেয়।


নতুন করে আলোচনায় গোয়েন্দা প্রশাসনের ভূমিকা

এই জবানবন্দি প্রকাশ্যে আসার পর নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন—
এটি স্পষ্ট প্রমাণ যে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর ভেতরে নির্দিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তাকে ‘রাজনৈতিক কায়দায়’ ব্যবহার করা হয়েছিল, এবং হারুন অর রশীদ ছিলেন তার মূল চালক।
তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে—শুধু গণআন্দোলন দমন নয়, বরং বিচারবহির্ভূত আটক, হুমকি, ও বেআইনি জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন অগ্রগামী।


সূত্র:

  • আদালতে দেওয়া চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের ১৬৪ ধারার জবানবন্দির নথি

  • ৬ আগস্ট ২০২৫, আদালত সূত্র

  • ট্রাইব্যুনাল সচিবালয়, ঢাকা

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency