প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল অসামান্য। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ পরবর্তী সময়ে নারীদের যে রাজনৈতিক সচেতনতা শুরু হয়েছিল, তা ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। সর্বশেষ, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার পাশাপাশি নারীদের সাহসিকতা ছিল প্রশংসনীয়। বর্তমানে বাংলাদেশে বিএনপি সরকার গঠনের পর সবার নজর এখন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের দিকে। রাজপথে লড়াই করা লড়াকু নেত্রীদের ত্যাগের স্বীকৃতি এবং নতুন মুখের আগমনে বিএনপি নেত্রীদের মধ্যে মনোনয়ন প্রতিযোগিতা এখন চরমে।
সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, সাধারণ আসনে যে দল যতটি আসন পায়, সেই অনুপাতে সংরক্ষিত আসন বণ্টন হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে। সে হিসাব অনুযায়ী, ৫০টি আসনের মধ্যে বিএনপি ৩৫টি আসন পেতে যাচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে বিএনপিতে এখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু না হলেও ঈদের পর মনোনয়ন কার্যক্রম শুরুর আভাস মিলেছে। নীতিনির্ধারকরা বলছেন, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, দলের প্রতি আনুগত্য এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা—সবই হতে পারে মূল্যায়নের মানদণ্ড। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে দলের হাইকমান্ড থেকে।
মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন দলের পরীক্ষিত নেত্রীরা, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
মহিলা দল: বর্তমান সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সিনিয়র যুগ্মসম্পাদক হেলেন জেরিন খান।
সাংগঠনিক নেত্রী: বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, কেন্দ্রীয় নেত্রী শিরিন সুলতানা।
সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী: কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভিন, কনকচাঁপা এবং ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা।
অভিজাত্য ও পারিবারিকভাবে আলোচনায়: হাসনা জসিমউদ্দিন মওদুদ, ব্যারিস্টার সালিমা বেগম আরুণি, সামিরা তানজিনা চৌধুরী (হারিছ চৌধুরীর মেয়ে)।
আন্দোলনে লড়াকু: নিপুণ রায় চৌধুরী, রুমানা আহমেদ (টুকুর স্ত্রী), বীথিকা বিনতে হুসাইন (শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী)।
১৯০০ সালের ব্রিটিশ ভারতের আমলাতান্ত্রিক রাজনীতি থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের ডিজিটাল যুগের সংসদীয় গণতন্ত্র—নারী নেতৃত্বের ধরণ বদলেছে। বিএনপি নেতারা বলছেন, যারা আওয়ামী লীগের পুরো মেয়াদে মাঠে থেকে গ্রেফতার হয়েছেন বা মামলায় সাজা পেয়েছেন, তারাই মনোনয়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। তবে আলোচনায় এসেছে যে, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে অনেকেই বিএনপি নেত্রী বনে গিয়ে মনোনয়নের দৌড়ঝাঁপ করছেন, যারা অতীতে সক্রিয় ছিলেন না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, "সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে দলীয় পর্যায়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। যথাযথ নিয়ম মেনেই সিদ্ধান্ত আসবে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন"।
তথ্যসূত্র: কালবেলা অনলাইন (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬), নির্বাচন কমিশন গেজেট এবং বিএনপির নীতিনির্ধারণী মহলের তথ্য।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |