প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এখন দেশব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন। ইতোমধ্যেই জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরা শপথ গ্রহণ করেছেন। এখন রাজনৈতিক অন্দরমহলে চলছে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনে প্রার্থী বাছাই ও মনোনয়নের চুলচেরা বিশ্লেষণ।
বাংলার রাজনীতির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই (১৯০০ পরবর্তী) এ ভূখণ্ডের রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ বিবর্তিত হয়েছে। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব এবং ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন—প্রতিটি বাঁকেই নারীদের পরোক্ষ প্রভাব ছিল।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে নারীদের অসামান্য আত্মত্যাগই স্বাধীন বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধানে সংরক্ষিত নারী আসনের ভিত্তি তৈরি করে। ১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদে সংরক্ষিত আসন ছিল ১৫টি। সময়ের পরিক্রমায় এবং বিভিন্ন সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে (সর্বশেষ ১৭তম সংশোধনী) বর্তমানে এই সংখ্যা ৫০-এ দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব পরবর্তী ২০২৬ সালের এই নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংরক্ষিত আসন এখন কেবল কোটা নয়, বরং রাজনৈতিক সংস্কারের একটি বড় অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। প্রাপ্ত আসন অনুযায়ী, ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে আনুপাতিক হারে বিএনপি একাই পাচ্ছে প্রায় ৩৫টি আসন। বাকি আসনগুলো জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য দলের মধ্যে বণ্টন হবে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দলের মহাসচিব ও নবনিযুক্ত স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংরক্ষিত নারী আসন প্রসঙ্গে তিনি দলের নীতিনির্ধারণী অবস্থান স্পষ্ট করেন।
সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, "সংরক্ষিত নারী আসনে কাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা সংসদে এবং দলের ফোরামে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে। তবে আমাদের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হবে—জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং দলের প্রতি দীর্ঘদিনের ত্যাগ।"
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, "যারা বিগত বছরগুলোতে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং দলের দুর্দিনে হাল ছাড়েননি, প্রার্থী বাছাইয়ে তারাই অগ্রগণ্য হবেন।" রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেলিমা রহমান, আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ এবং নিপুণ রায় চৌধুরীর মতো নেত্রীরা এই তালিকার শীর্ষে থাকতে পারেন।
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তিনি জানান, দেশের অনেকগুলো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় খুব দ্রুত সবগুলোকে এক জায়গায় নিয়ে এসে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হবে।
অন্যদিকে, বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা অফিস খোলার চেষ্টা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আইনগতভাবে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। সুতরাং আইন অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিয়মবহির্ভূত কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম সহ্য করা হবে না।"
১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সালের দীর্ঘ পথচলায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীদের ভূমিকা এখন আর কেবল অলঙ্কারিক নয়। ২০২৬ সালের এই সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব ১৬ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যরা যদি কেবল দলের অনুগত না হয়ে রাজপথের সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন, তবেই জুলাই বিপ্লবের চেতনা সার্থক হবে।
সূত্র: যুগান্তর, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), উইকিপিডিয়া (ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৬), বিএনপি কেন্দ্রীয় দপ্তর ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |