প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন বইছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া। দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৬ সালের এই নির্বাচনকে দেখা হচ্ছে রাষ্ট্র মেরামতের অন্তিম সুযোগ হিসেবে। এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশবাসীকে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) রাজধানীর ধানমন্ডির কলাবাগান মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি পথসভায় তিনি বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে একটি মহল নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তারা মানুষের কাছে গিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে আমাদের মা-বোনদের বিভিন্ন অবাস্তব ও বায়বীয় প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, যা আসলে মানুষের সাধ্যের বাইরে।’
বাঙালির রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের সংগ্রাম নতুন কিছু নয়। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা। এই দীর্ঘ শতাব্দীব্যাপী সময়ে ১৯০০ সালের ব্রিটিশবিরোধী চেতনা যেভাবে এদেশের মানুষের রক্তে মিশে ছিল, তেমনি ২০২৪ সালের বিপ্লবের চেতনাও আজ জাগ্রত। তারেক রহমান স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬—এই দীর্ঘ সময়ে এদেশের মানুষ বারবার ভোটের অধিকার এবং গণতন্ত্রের জন্য রক্ত দিয়েছে। তাই শত শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই ভোটাধিকার কোনোভাবেই ষড়যন্ত্রের কাছে হারতে দেওয়া যাবে না।
তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, ‘বিএনপি ভোটারদের এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে চায় না যা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। আমরা জনগণের সাধ্যের ভেতরে থেকে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই। খেয়াল করে দেখবেন, বিএনপি ছাড়া আর কোনো দলের কাছে রাষ্ট্র পরিচালনার সুনির্দিষ্ট কোনো রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিগত ১৬ বছর আমরা দেখেছি মেগা প্রজেক্টের নামে কীভাবে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। হাসপাতালগুলোতে ওষুধ নেই, রাস্তাঘাট বিধ্বস্ত। আমাদের এখন এগুলো পরিবর্তন করতে হবে।’
নির্বাচনি প্রচারণার এই সময়ে একটি অসাধু চক্র মা-বোনদের এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে বলে অভিযোগ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘একটি দলের নেতাকর্মীরা নকল ব্যালটের সিলসহ হাতেনাতে ধরা পড়েছে। তারা গ্রামে গ্রামে গিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। এসব গুপ্ত-ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আপনাদের সজাগ থাকতে হবে। আমরা সতর্ক থাকলে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কেউ রোধ করতে পারবে না।’
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তারেক রহমান তাঁর মাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া শত অত্যাচার ও জুলুমের মধ্যেও এদেশের মানুষকে ছেড়ে যাননি। তাকে অনেক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল দেশ ছাড়ার বিনিময়ে জেল-জুলুম থেকে মুক্তি পেতে। কিন্তু তিনি বলেছিলেন, এই দেশই তাঁর প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। তিনি এদেশের জনগণকে নিজের পরিবার মনে করেন।’
ঢাকা-১০ আসন নিয়ে নিজের আবেগের কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘ধানমন্ডির সঙ্গে আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক আছে। এটি আমার আত্মীয়-স্বজনদের এলাকা। তাই ধানমন্ডির উন্নয়নে প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবির সঙ্গে আমি নিজেও কাজ করব।’ এছাড়া বিএনপি ক্ষমতায় এলে তরুণদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর এবং কৃষিখাতকে সমৃদ্ধ করার ঘোষণা দেন তিনি।
আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনকে শুধু গণতন্ত্র নয়, বরং দেশ গঠনের নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সূত্র: বিএসএস নিউজ, যুগান্তর অনলাইন আর্কাইভ, বিএনপি মিডিয়া সেল ও মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদন।
বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন: এই প্রতিবেদনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের দীর্ঘ প্রেক্ষাপট (১৯০০-২০২৬) মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। এতে বর্তমান নির্বাচনি উত্তাপের পাশাপাশি ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়েছে। তারেক রহমানের এই বক্তব্য মূলত একটি গণতান্ত্রিক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |