প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের রাজনৈতিক ময়দান। নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে শোকজের মুখে পড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বর্তমান নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, "আমি কাউকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাইনি; বরং আশুগঞ্জ বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের একটি প্রসঙ্গের কথা বলতে গিয়ে সেই উদাহরণ টেনেছি। অথচ আমার একটি কাজকে কেন্দ্র করে তিনবার সাজা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আমি এমন প্রশাসনের অধীনে কীভাবে নির্বাচন করব যারা ইতিমধ্যে পক্ষপাতদুষ্ট বা ভায়াসড?"
তিনি নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেইং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগের অভাবের কথা উল্লেখ করে দাবি করেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শোকসভার নামে বিশাল সমাবেশ করছেন, স্টেজ ও মাইক ব্যবহার করছেন, এমনকি গরু জবাই করে খাওয়াচ্ছেন। তার অভিযোগ, প্রতিপক্ষ তার বিরুদ্ধে অশালীন বক্তব্য দিলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। সোমবার রিটার্নিং অফিসারের কাছে অন্য প্রার্থীদের জরিমানার তথ্য জানতে চাইলেও দীর্ঘ দেড় ঘণ্টায় কোনো সদুত্তর পাননি বলে জানান তিনি।
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক সবসময়ই ছিল।
১৯০০-১৯৪৭ (ব্রিটিশ শাসন): সে সময় নির্বাচনের ধারণা ছিল সীমিত, তবে আইনি লড়াই ও যুক্তিতর্কের রাজনীতি ছিল অত্যন্ত প্রখর।
পাকিস্তান আমল (১৯৪৭-৭১): ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন বা ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনেও প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ছিল নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়।
স্বাধীন উত্তর কাল (১৯৭১-২০২৪): ১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনগুলো তুলনামূলক গ্রহণযোগ্য হলেও পরবর্তীতে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নিয়ে চরম অনাস্থা তৈরি হয়।
২০২৬-এর বর্তমান প্রেক্ষাপট: ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৬ সালের এই আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। তবে রুমিন ফারহানার মতো হেভিওয়েট প্রার্থীদের এই অভিযোগ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনে এখনো আমূল সংস্কারের প্রয়োজন রয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান এক চিঠির মাধ্যমে রুমিন ফারহানাকে ২২ জানুয়ারি বেলা ১১টায় স্বশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখা দিতে বলেছেন। অন্যথায় তার অনুপস্থিতিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর জবাবে রুমিন ফারহানা জানান, তিনি ফেসবুকে এই চিঠি দেখেছেন এবং নির্ধারিত সময়ে তার আইনজীবী জবাব দিয়ে আসবেন। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর আগে রিটার্নিং অফিসার এমন চিঠি দেওয়ার আইনি এখতিয়ার রাখেন না।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের এই পরিস্থিতি কেবল একটি আসনের চিত্র নয়, বরং এটি সারা দেশের নির্বাচনী আমেজ ও উদ্বেগের প্রতিফলন। ১৯০০ সালের সেই রাজনৈতিক সচেতনতা থেকে ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল যুগের সচেতনতা—বাঙালি ভোটাররা সবসময়ই চান একটি সুষ্ঠু পরিবেশ। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে না পারলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি থেকে যাবে।
সূত্র: ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব মতবিনিময় সভা, যুগান্তর অনলাইন, বিএসএস (BSS) এবং ব্যক্তিগত সংগৃহীত তথ্য।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |