প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে নবম জাতীয় পে-স্কেল। আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) সচিবালয়ে পে-কমিশনের এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণে তিনটি বিকল্প প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে, যার যেকোনো একটি চূড়ান্ত হতে পারে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই নতুন বেতন কাঠামো সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত পূর্ণ কমিশনের সভায় সভাপতিত্ব করেন পে-কমিশনের সভাপতি জাকির আহমেদ খান। সভা সূত্রে জানা গেছে, সর্বনিম্ন বেতন (২০তম গ্রেড) নির্ধারণে তিনটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হয়েছে: ১. প্রথম প্রস্তাব: সর্বনিম্ন মূল বেতন ২১,০০০ টাকা। ২. দ্বিতীয় প্রস্তাব: সর্বনিম্ন মূল বেতন ১৭,০০০ টাকা। ৩. তৃতীয় প্রস্তাব: সর্বনিম্ন মূল বেতন ১৬,০০০ টাকা।
এছাড়া, নবম পে-স্কেলে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮ চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। এর অর্থ হলো—সর্বনিম্ন গ্রেডের কর্মচারীর মূল বেতন যদি ১০০ টাকা হয়, তবে সর্বোচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তার মূল বেতন হবে ৮০০ টাকা। যদিও সর্বোচ্চ বেতন স্কেল এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা সমন্বয় করে আগামী সপ্তাহে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হতে পারে।
উপমহাদেশের সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামোর বিবর্তন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯০৫ সালের পর ব্রিটিশ আমলে যখন প্রশাসনিক সংস্কার শুরু হয়, তখন থেকেই বেতন বৈষম্য কমানোর দাবি উঠেছিল।
১৯৭১-১৯৯০: স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় বেতন স্কেল প্রবর্তন করেন। তখন ১০টি গ্রেডে সর্বনিম্ন বেতন ছিল ১৩০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২,০০০ টাকা (অনুপাত ছিল ১৫.৩৭:১)। এরপর ১৯৭৭ সালে দ্বিতীয় পে-স্কেল এবং ১৯৮৫ সালে তৃতীয় পে-স্কেল কার্যকর হয়।
১৯৯১-২০১৫: ১৯৯১ সালে গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থার প্রত্যাবর্তনের পর থেকে পর্যায়ক্রমে পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম পে-স্কেল কার্যকর হয়। সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ৮,২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
২০২৪-২০২৬: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে ৩ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে নবম পে-কমিশন গঠন করে। আজ ২০২৬ সালের শুরুতে সেই কমিশন তাদের সুপারিশের শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯০০ সালের ঔপনিবেশিক আমলাতান্ত্রিক কাঠামো থেকে বেরিয়ে এসে ২০২৬ সালের এই নতুন পে-স্কেলে নিম্নবিত্ত ও উচ্চবিত্ত কর্মচারীদের বেতনের ব্যবধান কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। যেখানে ১৯৭৩ সালে ব্যবধান ছিল ১৫ গুণ, সেখানে ২০২৬ সালে তা ৮ গুণে নামিয়ে আনা হচ্ছে। এটি সরকারি সেবায় নিয়োজিত কর্মচারীদের মধ্যে বৈষম্য দূর করতে সহায়ক হবে। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এর ঠিক আগ মুহূর্তে এই পে-স্কেল ঘোষণা বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং কর্মচারীদের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র: ১. বাংলাদেশ প্রতিদিন (৮ জানুয়ারি, ২০২৬)। ২. সচিবালয় সূত্র ও পে-কমিশন টাস্কফোর্সের কার্যবিবরণী। ৩. বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস ও জাতীয় বেতন কাঠামোর ঐতিহাসিক রেকর্ড (১৯৭৩-২০১৫)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |