প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ২০২৫ সাল এক নতুন সমীকরণের বছর হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে। জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছেন তরুণ বিপ্লবীরা। সেই ধারাবাহিকতায় সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের ঘোষণা দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তবে ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহণ করছেন না বলে নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশের রাজনীতির দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে যে রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ ঘটেছিল, তা ছিল মূলত শোষণমুক্ত ও বৈষম্যহীন একটি রাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষা। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫৪-র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে তরুণেরা ছিল সম্মুখভাগের যোদ্ধা। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ থেকে ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং সর্বশেষ ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব—প্রতিটি মোড়ে তরুণেরা রক্ত দিলেও রাষ্ট্র কাঠামোর গুণগত পরিবর্তন সেভাবে ঘটেনি।
২০২৫ সালের এই মাহেন্দ্রক্ষণে আসিফ মাহমুদের মতো একজন ছাত্রনেতার নির্বাচনে না গিয়ে ‘প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের’ লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলে যোগদান ১৯৫০-এর দশকের সেই নিঃস্বার্থ রাজনীতির কথা মনে করিয়ে দেয়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের ৭৫ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে (১৯৫০-২০২৫) এটি একটি বিরল ঘটনা, যেখানে একজন উপদেষ্টা পদ ছেড়ে দিয়েও সরাসরি ক্ষমতার লড়াইয়ে না গিয়ে ব্যবস্থা পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদী লড়াই বেছে নিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ তাঁর সিদ্ধান্তের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, “আমরা যে লক্ষ্য নিয়ে রাজপথে লড়াই করেছি, সেই বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে কেবল ক্ষমতা বদল নয়, প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতির মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন। এনসিপি সেই পরিবর্তনের লক্ষ্যেই কাজ করবে।” তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এমপি হওয়া আমার লক্ষ্য নয়; বরং এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা যেখানে কোনো স্বৈরাচারের জন্ম হবে না।”
উল্লেখ্য, এর আগে আসিফ মাহমুদ ঢাকা-১০ ও কুমিল্লা-৩ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়তে পারেন বলে গুঞ্জন ছিল। এমনকি তাঁর নামে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের খবরও এসেছিল। কিন্তু সোমবারের এই ঘোষণা সব জল্পনার অবসান ঘটালো। তিনি এখন থেকে এনসিপির মুখপাত্র এবং দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের উপস্থিতিতে এই যোগদান অনুষ্ঠানটি দলটির শক্তিবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। ১০ দলীয় জোটের সঙ্গে আসন সমঝোতা এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির সম্পর্কের টানাপোড়েনের মাঝে আসিফ মাহমুদের এই যোগদান দলের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
২০২৫ সালের এই রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার মাঝে আসিফ মাহমুদ ও নাহিদ ইসলামদের মতো তরুণরা প্রথাগত রাজনীতির বাইরে গিয়ে যে ‘নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের’ কথা বলছেন, তা বাংলাদেশের আগামী কয়েক দশকের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিবে। ১৯৫০-এর সেই স্বপ্ন আর ২০২৫-এর বাস্তবতা এখন একই মোহনায় এসে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: ১. জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয় সংবাদ সম্মেলন নোট (২৯ ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ও ভিডিও বার্তা। ৩. ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তন ও ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস (১৯৫০-২০২৫)’ – বিশেষ আর্কাইভ।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |