| বঙ্গাব্দ

দারিদ্র্য কমাতে প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষায় বিনিয়োগের আহ্বান: জনসংখ্যাই হতে পারে দেশের বড় সম্পদ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 07-12-2025 ইং
  • 2292440 বার পঠিত
দারিদ্র্য কমাতে প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষায় বিনিয়োগের আহ্বান: জনসংখ্যাই হতে পারে দেশের বড় সম্পদ
ছবির ক্যাপশন: দারিদ্র্য কমাতে প্রযুক্তি

দারিদ্র্য নিরসনে 'জনসংখ্যাই বড় সম্পদ'; প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষায় বিনিয়োগের আহ্বান বিশেষজ্ঞদের: অর্থনৈতিক মুক্তি ও কর্মসংস্থান ভাবনা (১৯৫০-২০২৫)

প্রতিবেদকের নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

দারিদ্র্য বিমোচন: প্রযুক্তি ও দক্ষতা দিয়েই হবে কর্মসংস্থান বিপ্লব

দেশের ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য এবং বেকারত্বের চাপ মোকাবিলায় প্রযুক্তি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং কারিগরি শিক্ষায় ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, গত কয়েক দশকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হলেও সম্পদের সুষম বন্টন ও মানবসম্পদের যথাযথ উন্নয়ন না হওয়ায় দারিদ্র্যের হার প্রত্যাশিতভাবে কমেনি। সেক্টরভিত্তিক দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে পারলেই কর্মসংস্থান বাড়ানো সম্ভব এবং তখনই দারিদ্র্যের চাপ কমবে।

শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ছোয়াব’ (Choab) আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। বক্তাদের মূল বক্তব্য ছিল, জনসংখ্যা কোনো বোঝা নয়, বরং এটিই হতে পারে দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ— তবে এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে অবশ্যই সময়ের উপযোগী করে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।

সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডিন প্রফেসর ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান। সভাপতিত্ব করেন ছোয়াব চেয়ারম্যান এস এম রাশেদুজ্জামান। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সচিব ও এনবিআর-এর সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রমশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক আশরাফ হোসেন

১৯৫০ থেকে ২০২৫: দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রাম

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে (১৯৫০-২০২৫) দারিদ্র্য ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর থেকেই পূর্ব বাংলার অর্থনীতিতে যে বৈষম্য বিরাজ করছিল, তা স্বাধীনতার মূল কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম। স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল প্রায় ৮০ শতাংশ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণে প্রথম পদক্ষেপ নেয়।

  • পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (১৯৭৩): দেশের প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় দারিদ্র্য দূরীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।

  • বিগত দশক: নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হলেও, প্রফেসর ড. আব্দুল মজিদ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত না হওয়ায় প্রবৃদ্ধির সুবিধা সমাজের সব স্তরে পৌঁছায়নি। তিনি জোর দেন যে, মানবিক কার্যক্রম এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোকে আরও কার্যকরভাবে জোরদার করলে দারিদ্র্য আরও দ্রুত কমানো সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি: শিক্ষাব্যবস্থা ও প্রযুক্তির ভূমিকা

সমাবেশে বক্তারা স্পষ্ট করেন যে, প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা বাজারের চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে। সম্প্রতি পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ যেমনটা বলেছিলেন, শিক্ষাব্যবস্থা যুব বেকার তৈরি করছে। ঠিক তেমনি এই সমাবেশেও বিশেষজ্ঞরা প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে এই ধারা বদলানোর আহ্বান জানান।

প্রফেসর ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান তার প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, "শিল্প ও কৃষির আধুনিকীকরণে প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য। কিন্তু যদি আমাদের হাতে সেই প্রযুক্তিনির্র্ভর দক্ষ জনশক্তি না থাকে, তবে বিদেশ থেকে উচ্চ বেতনে লোক আনতে হবে। এতে দেশের টাকা দেশেই থাকবে না।" তিনি বলেন, শিক্ষা কারিকুলামে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

শ্রমশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক আশরাফ হোসেন জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা বাড়ছে। দেশের যুবসমাজকে যদি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত করা না হয়, তবে ২০২৫ সালের পরও বেকারত্বের হার কমবে না।

এস এম রাশেদুজ্জামান তার সভাপতির বক্তব্যে বলেন, এখন বিনিয়োগ বাড়াতে হবে উদ্যোক্তা উন্নয়নে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (SMEs) যদি সঠিক আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া যায়, তবে তারা স্থানীয় পর্যায়ে বড় আকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে, যা সরাসরি দারিদ্র্যের ওপর চাপ কমাবে।

মোটকথা, বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কেবল প্রবৃদ্ধি অর্জন নয়; এই প্রবৃদ্ধির ফলকে সুষমভাবে বন্টন এবং জনসংখ্যাকে প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞানের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করাই হলো ২০২৫ সাল ও তার পরবর্তী সময়ের জন্য দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার মূলমন্ত্র।


সূত্র ও বিশ্লেষণ

সূত্র: ১. ছোয়াব আয়োজিত সুধী সমাবেশ (৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ঢাকা)। ২. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডিন প্রফেসর ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসানের বক্তব্য। ৩. বাংলাদেশ সরকারের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ও অর্থনীতিবিদদের গবেষণাপত্র।

বিশ্লেষণ প্রতিবেদন কারির নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

বিশ্লেষণ: ছোয়াব-এর সুধী সমাবেশে বিশেষজ্ঞদের আহ্বান বাংলাদেশের চলমান অর্থনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুকে স্পর্শ করেছে। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের শুরু থেকেই (১৯৫০-২০২৫) দারিদ্র্য একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল। উচ্চ প্রবৃদ্ধির পরেও দারিদ্র্য না কমার প্রধান কারণ হিসেবে বক্তারা সম্পদের সুষম বন্টন ও দুর্বল মানবসম্পদ উন্নয়নকে চিহ্নিত করেছেন। প্রযুক্তি, উদ্যোক্তা এবং কারিগরি শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তরিত করার এই আহ্বানটি দেশের বর্তমান যুব বেকারত্বের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত জরুরি। এটি একদিকে যেমন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য দেশকে প্রস্তুত করবে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান বাড়িয়ে দারিদ্র্যের ওপর সরাসরি চাপ কমাতে সাহায্য করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency