এভারকেয়ার হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে খালেদা জিয়া: হার্ট ও ফুসফুস জটিলতা, চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞদের বহুজাতিক টিম
প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাজধানীর গুলশানের এভারকেয়ার হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। রোববার রাত ৮টার দিকে হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখা দিলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন।
প্রাথমিক পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী জানান—খালেদা জিয়ার হার্ট ও ফুসফুসে (চেস্ট) তীব্র ইনফেকশন শনাক্ত হয়েছে। তার বুকে সংক্রমণের জটিলতার সঙ্গে হার্টের স্থায়ী পেসমেকার, পূর্ববর্তী স্টেন্টিং এবং মাইট্রোস্টেনোসিস–এর মতো পুরোনো হৃদরোগগুলোর প্রভাব মিলিয়ে তার শ্বাসপ্রশ্বাসে উল্লেখযোগ্য চাপ পড়েছে।
অধ্যাপক সিদ্দিকী বলেন,
“একসঙ্গে হার্ট ও লাংস আক্রান্ত হওয়া খুবই জটিল অবস্থা তৈরি করে। তাই তাকে অত্যন্ত দ্রুত হাসপাতালে আনা হয়েছে এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক পরীক্ষার পর জরুরি ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিক এবং রেসপিরেটরি সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। আগামী ১২ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও জানান—খালেদা জিয়া কেবিনেই আছেন, তবে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ ইন্টেন্সিভ কেয়ার প্রোটোকল অনুসারে চলছে।
খালেদা জিয়ার ভর্তি হওয়ার পরপরই মেডিকেল বোর্ড গঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন—
• অধ্যাপক এফএস সিদ্দিকী
• ডা. জাফর ইকবাল
• ডা. জিয়াউল হক
• ডা. মামুন আহমেদ
• ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাইফুল ইসলাম
এ ছাড়া লন্ডন থেকে ডা. জুবাইদা রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিনস হাসপাতালের একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। বোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে চিকিৎসা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক এজেডএম জাহিদ হোসেন জানান—পরিবার থেকে তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান লন্ডন থেকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। হাসপাতালে তার সঙ্গে রয়েছেন প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিণী সৈয়দা শামিলা রহমান।
জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন,
“ম্যাডামের জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতার ভিত্তিতে চিকিৎসা চলছে। আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন পরিস্থিতি মনে করছি না; তবে অবস্থা খুবই সংবেদনশীল, বিশেষ করে পরবর্তী ১২ ঘণ্টা।”
খালেদা জিয়া দেশবাসীর কাছে দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।
৮০ বছর বয়সি খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে
• আর্থ্রাইটিস
• ডায়াবেটিস
• কিডনি সমস্যা
• ফুসফুসজনিত জটিলতা
• চোখের সমস্যা
• হৃদরোগ
এ ধরনের ক্রনিক (দীর্ঘমেয়াদি) অসুস্থতায় ভুগছেন।
সর্বশেষ তিনি লন্ডনে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১১৭ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং গত ৬ মে দেশে ফেরেন।
বাংলাদেশে নেতৃত্বস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থা প্রাকৃতিকভাবে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্ব বহন করে—কারণ দেশের ক্ষমতা, নির্বাচন ও রাজনৈতিক ডায়নামিকসে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বড় ভূমিকা রাখে।
| সময়কাল | রাজনৈতিক বাস্তবতা | সম্পর্ক |
|---|---|---|
| ১৯৭৫–১৯৯০ | সামরিক শাসনের পর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার | খালেদা জিয়া জাতীয় আন্দোলনের কেন্দ্রীয় চরিত্র |
| ১৯৯১–২০০৬ | তিনবার প্রধানমন্ত্রী | নেতৃত্বের সাংবিধানিক স্থায়িত্ব |
| ২০০৯–২০২৩ | বিরোধী রাজনীতির নেতৃত্ব | গণতন্ত্র–মানবাধিকার বিতর্ক |
| ২০২৪–২০২৫ | সরকার পরিবর্তন, তত্ত্বাবধায়কের যুগ | জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির অবস্থান পুনর্গঠন |
এই প্রেক্ষাপটে চিকিৎসা-সংবাদ শুধু ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়—
ভবিষ্যৎ রাজনীতি, নির্বাচন ও নেতৃত্বের ধারার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
রাজনৈতিক অঙ্গন শ্বাসরুদ্ধ অবস্থায় অপেক্ষা করছে — বিএনপির সম্ভাব্য নির্বাচনি কৌশল, নেতৃত্বের দৃশ্যমানতা ও মাঠপর্যায়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম স্বাস্থ্য পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল হতে পারে।
আন্তর্জাতিক মহলেও নজর রয়েছে — এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কমনওয়েলথ ও যুক্তরাজ্যের সংসদীয় ব্রিফিংয়ে তার চিকিৎসা-অবস্থা ও মানবিক দিক উল্লেখ ছিল।
পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনার জন্য ১২ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ — মেডিকেল বোর্ডের পরবর্তী বৈঠকেই পরবর্তী ধাপ নির্ধারিত হবে।
প্রতিবেদন বিশ্লেষণ : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
১) Evercare Hospital Medical Protocol Updates
২) BNP Health Briefing & Family Medical Coordination (চিকিৎসক তথ্য)
৩) Reuters International — “Bangladesh: Political Leadership Health Update Archive”
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |