প্রতিবেদনকারীর নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, তার দল নিম্নকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর (Proportional Representation) চায় না। তবে উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতির পক্ষে রয়েছে।
শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন—
“জামায়াত সংসদের উভয়পক্ষে পিআর পদ্ধতি চায়। কিন্তু এনসিপি শুধু উচ্চকক্ষে পিআরের পক্ষে।”
“জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের দোসরদের নিষিদ্ধ করার বিষয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট।”
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে গণহত্যায় জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গ্রামে-গঞ্জে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
নাহিদ ইসলাম ঘোষণা দেন—
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে এনসিপি।
উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত তৃণমূল কর্মসূচি নিয়ে যাবে দল।
নতুন সংবিধান ও ২৪ দফা কর্মসূচি শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, অঙ্গসংগঠনের নেতা, এবং জেলা, মহানগর, উপজেলা ও থানা পর্যায়ের সমন্বয়কারীরা।
Proportional Representation (পিআর) হলো এমন একটি নির্বাচনী ব্যবস্থা, যেখানে একটি দল তাদের মোট ভোটের অনুপাতে সংসদে আসন পায়।
উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো দল ৩০% ভোট পায়, তবে সংসদের মোট আসনের প্রায় ৩০% তাদের হাতে যায়।
বাংলাদেশের বর্তমান ব্যবস্থায় "ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট" (FPTP) প্রথা চালু আছে—যেখানে সর্বাধিক ভোট পাওয়া প্রার্থী নির্বাচিত হন, যদিও তিনি অর্ধেকের কম ভোট পেলেও।
তাই ছোট ও মাঝারি দলগুলো পিআর ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের জনভিত্তি অনুযায়ী সংসদে অংশ নিতে চায়।
নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে স্পষ্ট হলো—এনসিপি নিম্নকক্ষে প্রতিযোগিতামূলক আসনভিত্তিক নির্বাচন চায়, তবে উচ্চকক্ষে (দ্বিতীয় সংসদীয় কক্ষ প্রবর্তন হলে) পিআর পদ্ধতি চালুর দাবি জানাচ্ছে।
১৯৫৪ যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন: বহুদলীয় ঐক্যের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা।
১৯৭২ সংবিধান: একক কক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রবর্তন।
১৯৯১: সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন হলেও পিআর নিয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
২০০৮ পরবর্তী সময়: ছোট দলগুলো সংসদে প্রতিনিধিত্ব সংকট কাটাতে পিআর দাবি তোলেন।
২০২৪ জুলাই আন্দোলন ও ২০২৫: নতুন সংবিধান সংস্কারের আলোচনায় আবারও পিআর ইস্যু সামনে এসেছে।
নাহিদ ইসলামের বক্তব্য কয়েকটি দিককে স্পষ্ট করে—
ছোট দলের কৌশল: পিআর প্রবর্তনের দাবি ছোট ও উদীয়মান দলগুলোর জনপ্রিয়তা অনুযায়ী সংসদে আসন পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াবে।
বড় দলের বিরুদ্ধে অবস্থান: আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়াতে চাইছে এনসিপি।
দুর্নীতি বিরোধী এজেন্ডা: জনগণের সঙ্গে সেতুবন্ধন রক্ষায় দুর্নীতি বিরোধী অবস্থান জোরালোভাবে উপস্থাপন করছে দলটি।
ভবিষ্যৎ সংবিধান সংস্কার: ২৪ দফা কর্মসূচি ও নতুন সংবিধান প্রস্তাব রাজনৈতিক অঙ্গনে এনসিপিকে বিকল্প শক্তি হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপি জাতীয় নির্বাচনের আগে নিজেদের সংগঠনকে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দৃঢ় করতে চাইছে, আর পিআর প্রসঙ্গ সামনে এনে বড় দলের সঙ্গে পার্থক্য তৈরি করছে।
যুগান্তর ও বাংলাদেশ প্রতিদিন – এনসিপি সম্পর্কিত রাজনৈতিক প্রতিবেদন (২০২৫)
Wikipedia – Timeline of Bangladeshi Politics (1950–2025)
Asia Society – Political Turmoil in Bangladesh: Hasina’s Fall and Rise of Interim Government (2024
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |