| বঙ্গাব্দ

সিলেটের পাথর উত্তোলন ৫ আগস্টের আগেই চলছিল: পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 06-09-2025 ইং
  • 3322756 বার পঠিত
সিলেটের পাথর উত্তোলন ৫ আগস্টের আগেই চলছিল: পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান
ছবির ক্যাপশন: পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান

“সিলেটের পাথর উত্তোলন ৫ আগস্টের আগে থেকেই চলছিল: উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান”

প্রতিবেদক:

বিডিএস বুলবুল আহমেদ

অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, সিলেটের পাথরমহাল এলাকাগুলো থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বহু আগে থেকেই চলছিল। অথচ বর্তমানে ৫ আগস্টকে সামনে রেখে বলা হচ্ছে, এর পর থেকেই নাকি এসব শুরু হয়েছে।

শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে “ঢাকার জলাধার পুনরুদ্ধার : চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা” শীর্ষক নগর সংলাপে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

রাজনৈতিক সমর্থন ছাড়া সম্ভব নয়

উপদেষ্টা বলেন, “পাথর তোলা বন্ধ করতে রাজনৈতিক সমর্থন প্রয়োজন। রাজনৈতিক সমর্থন ছাড়া প্রশাসন সহযোগিতা করবে না। আর প্রশাসন সাহায্য না করলে অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধ করা সম্ভব নয়।”

তিনি জানান, সিলেটের ছয়টি জায়গায় নির্বিঘ্নে পাথর তোলা হচ্ছিল। এ বিষয়ে তিনি প্রথম মামলা করেছিলেন ২০০৯ সালে, অথচ তার আগেই অন্তত দুই বছর ধরে উত্তোলন চলছিল। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০২0 সালে জাফলংয়ে উত্তোলন বন্ধ হয়। কিন্তু পরবর্তীতে আবার লুটপাট শুরু করার প্রচেষ্টা দেখা যায়।

রাজস্ব বনাম লুট

রিজওয়ানা হাসান বলেন, “এখন বলা হচ্ছে, কয়েক দিনে ৩০০ থেকে এক হাজার কোটি টাকার পাথর লুট হয়েছে। অথচ ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে সরকার রাজস্ব পেয়েছে মাত্র ৪০ কোটি টাকা। প্রকৃত মূল্য ও রাজস্বের সঙ্গে কোনো মিল নেই। আসলে লুটেরাদের আমরা নিজেরাই তৈরি করেছি।”

তিনি জানান, দেশের মোট পাথরের চাহিদার মাত্র ৬ শতাংশ আসে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে, বাকিটা আমদানি করা হয়।

ট্যুরিজম মাস্টারপ্ল্যানের অভাব

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ভারত তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করে পর্যটন উন্নয়ন করছে। অথচ বাংলাদেশে জাফলংসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো এখনো সংরক্ষিত হয়নি।”

নদী, বিল ও হাওর প্রসঙ্গ

  • বাকখালী নদী: রিজওয়ানা জানান, দখলমুক্ত করতে মাত্র তিন দিনের উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয়েছে। জনগণের বিরোধিতার কারণে পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

  • চলনবিল: তিনি বলেন, চলনবিল সুরক্ষায় আদেশ জারি করে সীমানা নির্ধারণ করা হবে। আড়িয়াল বিল, চলনবিল ও বেলার বিল নিয়ে কাজ চলছে।

  • ঢাকার জলাশয়: জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড থেকে ঢাকার জেলা প্রশাসককে ৪০টি পুকুর উদ্ধারের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে সঠিক সুয়ারেজ ব্যবস্থাপনা না থাকায় জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধান হচ্ছে না।

  • হাওর: হাওর সুরক্ষা আদেশ জারি করা হয়েছে। হাকালুকি ও টাঙ্গুয়ার হাওর সংরক্ষণে কাজ চলছে।

  • নদী তালিকা: দেশের নদীর তালিকা প্রণয়ন প্রায় শেষ। তবে সুন্দরবন ও পার্বত্য অঞ্চলের নদীগুলো শনাক্ত বাকি রয়েছে। সীমান্তবর্তী নদীর তালিকাও তৈরি করা হবে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

উপদেষ্টা বলেন, আমিনবাজার বর্জ্য প্রকল্পকে মডেল ধরে বিদেশি সংস্থার মাধ্যমে উন্নত ব্যবস্থাপনা চালুর চিন্তা করা হচ্ছে।


সূত্র

  1. নগর সংলাপ “ঢাকার জলাধার পুনরুদ্ধার : চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা” – সিরডাপ মিলনায়তন, ৬ সেপ্টেম্বর

  2. পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্য

  3. পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের বরাদ্দ সংক্রান্ত তথ্য

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency