প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রকাশ: ১ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ (জকসু) নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিনের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তারা রেজিস্ট্রারের সঙ্গে দেখা করে জকসু নির্বাচন সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রেজিস্ট্রার তাদের প্রশ্ন এড়িয়ে যান এবং কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
সাংবাদিক আতিক মেসবাহ লগ্ন বলেন—
“আমি রিপোর্টার হিসেবে জকসু নিয়ে জানতে চেয়েছিলাম। কিন্তু স্যারের আচরণ ছিল অপেশাদার এবং অপমানজনক।”
সাংবাদিক রাকিবুল ইসলাম জানান—
“স্যার বলেন, ‘আমি নীতিমালা কমিটির সচিব নই, সাধারণ সদস্য।’ তিনি বলেন, ‘আমি কিছু জানি না।’ এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের উত্তর তিনি দেবেন না।”
রেজিস্ট্রারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৫ সালে। কিন্তু আজ অবধি সেখানে একবারও ছাত্রসংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। এর মূল কারণ হিসেবে বলা হয়—
২০০৫ সালের ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন’-এ জকসু নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো স্পষ্ট ধারা ছিল না।
অবশেষে ২০২৫ সালে এসে সিন্ডিকেট সভায় জকসু গঠনের জন্য একটি নীতিমালা খসড়া উপস্থাপন করা হয়।
সিন্ডিকেটের নির্দেশে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীনকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয় এবং খসড়া নীতিমালা ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
তাদের দাবি—
জকসু নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে
দুই কার্যদিবসের মধ্যে সুনির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করতে হবে
নীতিমালা ও খসড়া যেন শিক্ষার্থীদের সামনে খোলাখুলি উপস্থাপন করা হয়
বিশ্লেষকদের মতে, যেকোনো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি অপরিহার্য।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে যায়, সেটা প্রশাসনের অস্বচ্ছ মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের একজন অধ্যাপক বলেন—
“ছাত্রসংসদ একটি গণতান্ত্রিক চর্চা। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করা অপরাধ নয়, বরং তা প্রশাসনকে জবাবদিহির পথে রাখে।”
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ছাত্রসংসদ (ডাকসু বা জকসু) একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।
বিশেষত ১৯৫২, ১৯৬৯, ১৯৭১, ১৯৯০—প্রতিটি আন্দোলনে ছাত্রসংসদ নেতারা কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন।
জগন্নাথ কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তরণ হলেও এই প্রতিষ্ঠানটি একসময় রাজনৈতিক আন্দোলনের ঘাঁটি ছিল।
ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, জাতীয় ছাত্র সমাজ, ছাত্র ফ্রন্ট সহ বহু সংগঠনের তৎপরতা এখনো কার্যকর রয়েছে।
তবে এত বছরেও নির্বাচিত ছাত্র নেতৃত্বের অনুপস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়কে ছাত্রবিহীন প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান-এ পরিণত করছে বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ।
যদিও নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তবুও—
তার বাস্তবায়ন সময়সূচি নেই
শিক্ষার্থীদের মতামত নেয়া হয়নি
সাংবাদিকদের সাথে অবহেলার আচরণ
সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে—প্রশাসন কি আদৌ জকসু চায়? নাকি সময়ক্ষেপণের কৌশল?
সরেজমিন সাক্ষাৎ: আতিক মেসবাহ লগ্ন ও রাকিবুল ইসলাম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সভার কার্যবিবরণী (২০২৫)
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, ৩০ জুলাই ২০২৫
“ছাত্ররাজনীতি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন”, প্রফেসর এম. জে. কামাল
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |