মঙ্গলবার (২৯ জুলাই ২০২৫) ঢাকায় জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত "জুলাই স্মরণ সভা"য় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন:
"বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন—এই তিন প্রক্রিয়া একসাথে না চললে জাতীয় বিপর্যয় অনিবার্য।"
তিনি শহীদ পরিবারের কণ্ঠে উচ্চারিত হতাশা তুলে ধরে বলেন, “যারা তাদের পরিবার হারিয়েছে, তারা বিচার না পেলে আর ভোটে আগ্রহ দেখায় না।”
তিনি আরও বলেন, “জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিংয়ে কিছু ঘাটতি থাকলেও তা সংশোধন করে স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের নেতাদের বিচারিক হত্যা হয়েছে। এমন অন্যায় আর দেখতে চাই না।”
তিনি বলেন, “ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পেলে কেউই ছাড় পাবে না। খুনিরা যেন তাদের যথাযথ শাস্তি পায়—এই বিশ্বাসই জামায়াতের।”
এ সময় তিনি সরকার গঠনে সুযোগ পেলে কিংবা বিরোধী দলে থাকলেও দলের অবস্থান হবে অকুতোভয় ও ন্যায়নিষ্ঠ। তিনি বলেন, “আমরা কাউকে ভয় করব না, শুধু আল্লাহকে। জাতির কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা থাকবে। অন্য দলগুলোর কাছ থেকেও একই রকম দায়িত্ববোধ আশা করি।”
১৯৫২: ভাষা আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগ বাংলা জাতীয়তাবাদের ভিত্তি গড়ে তোলে।
১৯৭১: মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। জামায়াতে ইসলামীর একাংশ সরাসরি যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত হয়।
১৯৭৫: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন, দেশে সেনাশাসনের সূচনা হয়।
১৯৯১: গণতান্ত্রিক ধারা পুনরায় শুরু। জামায়াত অংশগ্রহণ করে নির্বাচনে।
২০১০: যুদ্ধাপরাধের বিচারে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার ও দণ্ড।
২০১৩: শাহবাগ আন্দোলন; যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গণজাগরণ।
২০১৪-২০১৮: নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ; রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিরোধী দলের দমন-পীড়ন।
২০২৪-২০২৫: ছাত্র-জনতা আন্দোলন, শেখ হাসিনার পদত্যাগ, অস্থায়ী সরকার গঠন, বিচার ও সংস্কারের দাবি প্রবল হয়।
২০২৫ সালের নির্বাচনী আবহে জামায়াতে ইসলামী দাবি জানায়:
বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে হবে।
স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা জরুরি।
সংস্কার ছাড়া নির্বাচন নয়—নির্বাচন কমিশন সংস্কার, PR পদ্ধতি চালু, কালো টাকা ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ করতে হবে।
শহীদ পরিবারের দাবি অনুযায়ী দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
জাতিসংঘের সুপারিশের ভিত্তিতে স্বচ্ছতা আনতে হবে।
শফিকুর রহমান বারবার এ কথাই বলেন: “শুধু ভোট দিলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয় না, ন্যায়বিচার ও সংস্কার তার পূর্বশর্ত।”
ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য বাংলাদেশের অতীত ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি যেন—১৯৭৫ সালের বিচারহীনতা, ২০০৭ সালের অস্থায়ী শাসন, ২০১৩ সালের গণদাবি ও ২০২৪ সালের আন্দোলন সবকিছুরই ধারাবাহিকতায় এ বক্তব্য দাঁড়িয়েছে।
তার বক্তব্যে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জাতীয় ঐক্যের দাবি আছে। বাংলাদেশে গণতন্ত্র, বিচারব্যবস্থা ও নির্বাচন ব্যবস্থা যদি পুনরুদ্ধার করতে হয়, তাহলে বিচার, সংস্কার ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা একসাথে এগোতে হবে।
তিনি যে “আমরা কাউকে ভয় করব না” বলছেন, তা আসলে বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে আত্মবিশ্বাস ও বিকল্প রাজনৈতিক নেতৃত্ব গঠনের ইঙ্গিত দেয়।
jamaat-e-islami.org/news-details.php
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |