নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন
ঢাকা, ১২ জুলাই ২০২৫ — ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর, ঝিনাইদহ ও নারায়ণগঞ্জে বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের নামে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো পুরোনো ও বিভ্রান্তিকর বলে নিশ্চিত করেছে অনলাইন যাচাইসংস্থা ডিসমিসল্যাব। শনিবার (১২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া এসব ভিডিও যাচাই করে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে—সেগুলোর অধিকাংশই ২০২৩ ও ২০২৪ সালের পুরোনো ঘটনার ভিডিও ক্লিপ, যা বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কহীন।
সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত ঘটনা—মিটফোর্ড এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যার প্রতিবাদে ছাত্রদল ও যুবদলের কিছু কর্মীকে দল থেকে বহিষ্কারের পর সারাদেশে বিক্ষোভ শুরু হয়। সেই প্রেক্ষিতে এনসিপি ও জামায়াত-শিবির কর্মীরা সাধারণ মানুষের নামে বিএনপি অফিসে হামলা চালিয়েছে—এই দাবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে একাধিক ভিডিও ছড়ানো হয়।
তবে যাচাই করে দেখা গেছে, ভিডিওগুলোর বেশিরভাগই আগের সময়ের:
কুমিল্লা ও ঢাকা অফিসে আগুন দেওয়া: ভিডিওটি ১৭ মে ২০২৫ সালের। ওই সময় কুমিল্লায় পদবঞ্চিত বিএনপি নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ থেকে দলীয় কার্যালয়ে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে। ভিডিওটি সময় টিভি এবং প্রথম আলো-তে তখন প্রকাশিত হয়।
ঝিনাইদহ হামলার ভিডিও: ভিডিওটি ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ধারণ করা। আওয়ামী লীগপন্থী একটি গ্রুপের হামলার ভিডিও এটি, যেটি এখন বিএনপি অফিসে জামায়াতের হামলা বলে প্রচার করা হচ্ছে। দৈনিক কালের কণ্ঠ ও কালবেলা পত্রিকার প্রতিনিধিরা নিশ্চিত করেছেন যে ঘটনাস্থলে বর্তমানে কোনো ক্ষতির চিহ্ন নেই।
যশোর অফিসে হামলার নামে ছড়ানো ভিডিও: এটি ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসের লালমনিরহাটে বিএনপি নেতা আসাদুল হাবিব দুলুর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে হামলার ভিডিও। ইউটিউব চ্যানেল লালমনি পোস্ট-এ মূল ভিডিও এখনো রয়েছে।
খিলক্ষেত বিএনপি অফিস ধ্বংস: এটি কোনো বিক্ষোভ বা সহিংসতার ঘটনা নয়, বরং ২০২৫ সালের ২৬ জুন যৌথবাহিনীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান। ভিডিওটি জাগো নিউজ-এর ইউটিউব চ্যানেল থেকে পাওয়া গেছে।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আগুন: ভিডিওটি ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর একাত্তর টিভির রিপোর্ট থেকে নেওয়া। সেটি এখন প্রচার হচ্ছে ১২ জুলাইয়ের ঘটনা হিসেবে।
ডিসমিসল্যাব জানায়, সামাজিক মাধ্যমে “গণবিক্ষোভ” বা “সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া” হিসেবে যেসব ভিডিও প্রচারিত হচ্ছে, সেগুলোর উদ্দেশ্য রাজনৈতিক বিভ্রান্তি ও প্রতিপক্ষকে দায়ী করে সহানুভূতি তৈরি করা।
এই ভিডিওগুলো বর্তমান ঘটনাবলির সাথে সম্পর্কিত নয় বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভুয়া প্রচারণা।
গত বুধবার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ব্যবসায়ী সোহাগকে এলোপাতাড়ি আঘাত ও কুপিয়ে হত্যা করে একদল দুর্বৃত্ত।
এই ঘটনায় বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল চারজন নেতাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে।
এরপর সারাদেশে আন্দোলন চললেও, বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে—“অন্যায়কারী দলের হলেও, শাস্তি হবে আইনের ভিত্তিতে।”
এই ঘটনা আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়—ভিডিও প্রমাণ, সময়কাল ও প্রেক্ষাপট না জেনে প্রচার করা হলে, সেটি ফেক নিউজের হাতিয়ার হয়ে ওঠে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভ্রান্তিকর ভিডিও ভাইরাল করে জনমত প্রভাবিত করা, কিংবা একটি বিশেষ রাজনৈতিক সংগঠনকে সন্ত্রাসী হিসেবে তুলে ধরার কৌশল হিসেবে কাজ করছে।
কোনো ভিডিও বা ছবি সামাজিক মাধ্যমে দেখলেই সেটিকে সাম্প্রতিক বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
বিশ্বস্ত গণমাধ্যম বা যাচাইকৃত উৎস ছাড়া কোনো রাজনৈতিক ভিডিও শেয়ার বা মন্তব্য না করার আহ্বান জানিয়েছে ডিসমিসল্যাব।
আপনার মতামত দিন
এই ভিডিওগুলো ছড়ানো কি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল, নাকি সাধারণ ব্যবহারকারীদের ভুল? আপনি কীভাবে সামাজিক মাধ্যমে সঠিক তথ্য যাচাই করেন?
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |