| বঙ্গাব্দ

সরকারি চাকরি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫: শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আগে তদন্ত কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 04-07-2025 ইং
  • 3610322 বার পঠিত
সরকারি চাকরি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫: শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আগে তদন্ত কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক
ছবির ক্যাপশন: সরকারি চাকরি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫

সরকারি চাকরি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫: শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে নতুন বিধান

বাংলাদেশ সরকার ‘সরকারি চাকরি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫’ প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে, যা সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আগে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের বিধান রাখবে। এই অধ্যাদেশটি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ছাড়া শাস্তি দেওয়ার সুযোগ বন্ধ করবে।

তদন্ত কমিটি এবং নারী সদস্যের উপস্থিতি

অধ্যাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীতে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর আগে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। এই তদন্ত কমিটিতে অবশ্যই একজন নারী সদস্য থাকতে হবে, বিশেষত যখন অভিযোগ কোনো নারী কর্মকর্তা বিরুদ্ধে উঠবে। এই বিধানটি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আগে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করবে।

তদন্তের সময়সীমা এবং প্রতিবেদন

তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে, কমিটির সদস্যদের তদন্ত শুরু করার ১৪ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। যদি কমিটি সময়মতো প্রতিবেদন দাখিল না করে, তবে তা তাদের অদক্ষতা হিসেবে গণ্য হবে এবং এটি এসিআরে লিপিবদ্ধ হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত নতুন বিধান

এছাড়া, অনারীচাকরি হতে অপসারণ সংক্রান্ত যে দণ্ড ছিল তা বাদ দেওয়া হয়েছে। অনুপস্থিত থাকতে উসকানি দেওয়ার ধারাও বাদ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তের শুনানিতে উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য এখন থেকে নোটিশে উল্লেখ করতে হবে, যাতে প্রত্যেক কর্মচারীর কাছে পরিষ্কার হয় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও শাস্তির সম্ভাবনা।

সরকারের পদক্ষেপ এবং আগের অধ্যাদেশের প্রতিবাদ

আগের অধ্যাদেশটি ২০১৮ সালের সরকারি চাকরি আইন ছিল, যা সামরিক শাসনামলের কালা কানুন হিসেবে পরিচিত। এর বিরুদ্ধে বেশ কিছু দিন আন্দোলন চলছিল এবং সরকারি কর্মচারীরা অনেকেই এ অধ্যাদেশ বাতিলের দাবী করেছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানায়, ৪ জুন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যারা আন্দোলনকারী কর্মচারী সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে এই সংশোধন প্রস্তাব তৈরি করেন।

কর্মচারীদের অভিব্যক্তি

বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরামের কো-মহাসচিব নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, “আমাদের আন্দোলন ছিল মূলত সামরিক শাসনামলের বিতর্কিত ও কালা কানুন বাতিল করা। বর্তমান সরকার কর্মচারীদের আপত্তি ও আশঙ্কাগুলোকে বিবেচনায় এনে সংশোধন করেছে—এটি মন্দের ভালো।”

উপসংহার

এই সংশোধনীর মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের শৃঙ্খলা ও আইনানুগ ব্যবস্থা আরও দৃঢ় করা হয়েছে। তবে, কর্মচারীদের পক্ষ থেকে সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা করা হলেও, শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮ বহাল থাকার কারণে অহেতুক এই ধরনের অধ্যাদেশের প্রয়োজন ছিল না বলে মনে করছেন তারা।

প্রতিবেদকBDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency